দেশ

দূষণ সার্টিফিকেট ছাড়া তেল মিলবে না, দিল্লিতে কঠোর ব্যবস্থা সরকারের

দূষণ রুখতে বৃহস্পতিবার থেকে দিল্লিতে ঢোকা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে বিএস–৬ (BS-VI) মানদণ্ডের ইঞ্জিনবিহীন গাড়ির প্রবেশ।

Truth Of Bengal: ধোঁয়াশা ও দূষণের জেরে কার্যত দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দিল্লিতে। দীপাবলির সময় থেকেই বাতাসে ক্ষতিকর দূষিত কণার মাত্রা বাড়তে শুরু করেছিল, যা এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। উৎসবের পর থেকে রাজধানীতে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার একের পর এক কড়া পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে প্রশাসন।

দূষণ রুখতে বৃহস্পতিবার থেকে দিল্লিতে ঢোকা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে বিএস–৬ (BS-VI) মানদণ্ডের ইঞ্জিনবিহীন গাড়ির প্রবেশ। একই সঙ্গে পেট্রোল পাম্পগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বৈধ দূষণ সংক্রান্ত সার্টিফিকেট (PUC) ছাড়া কোনও গাড়িকে জ্বালানি দেওয়া যাবে না। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধুমাত্র বিএস–৬ ইঞ্জিনযুক্ত গাড়িই রাজধানীতে প্রবেশের অনুমতি পাবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে গুরুগ্রাম, গাজিয়াবাদ, ফরিদাবাদ ও নয়ডা থেকে প্রতিদিন যে বিপুল সংখ্যক গাড়ি দিল্লিতে ঢোকে, তার বড় অংশই আর প্রবেশ করতে পারবে না। হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ১২ লক্ষ গাড়ির দিল্লিতে ঢোকা বন্ধ হবে। এর মধ্যে নয়ডা থেকে ৪ লক্ষের বেশি, গুরুগ্রাম থেকে প্রায় ২ লক্ষ এবং গাজিয়াবাদ থেকে প্রায় ৫.৫ লক্ষ গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ হবে।

নিয়ম কার্যকর করতে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। গাড়ি তল্লাশির জন্য মোতায়েন থাকবেন ৫৮০ জন পুলিশকর্মী। পাশাপাশি ১২৬টি চেকপয়েন্টে কাজ করবে ৩৭টি এনফোর্সমেন্ট ভ্যান। পেট্রোল পাম্পগুলিতে পরিবহন দপ্তর, পুরনিগম এবং খাদ্য দপ্তরের কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই দিল্লির বহু পেট্রোল পাম্পে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যার মাধ্যমে সহজেই বৈধ PUC সার্টিফিকেটবিহীন গাড়ি চিহ্নিত করা যাবে।

মঙ্গলবার দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। জানানো হয়েছে, গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (GRAP)-এর চতুর্থ পর্যায় চালু থাকাকালীন এই কড়া বিধিনিষেধ বজায় থাকবে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শীতকালে বাতাসে থাকা PM10 দূষণের প্রায় ১৯.৭ শতাংশ এবং PM2.5 দূষণের প্রায় ২৫.১ শতাংশের জন্য দায়ী যানবাহন থেকেই নির্গত ধোঁয়া।

দূষণ কমাতে দিল্লির প্রায় ১০০টি হটস্পটে যানবাহনের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সিগন্যালগুলিতে গাড়ির ভিড় কমবে এবং দূষণও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রশাসনের।

নভেম্বর মাস থেকে দিল্লির বায়ু মান সূচক (AQI) ‘গুরুতর’ থেকে ‘অত্যন্ত খারাপ’ পর্যায়ের মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে। বুধবার বিকেল ৪টে পর্যন্ত শহরের গত ২৪ ঘণ্টার গড় AQI ছিল ৩৩৪, যা ‘অত্যন্ত খারাপ’ বিভাগের মধ্যে পড়ে। যদিও মঙ্গলবারের তুলনায় পরিস্থিতি সামান্য উন্নত হয়েছে, কারণ আগের দিন এই সূচক ছিল ৩৫৪।

প্রসঙ্গত, দীপাবলির পর থেকেই দিল্লির বাতাস ভয়াবহভাবে দূষিত হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লি সরকার ‘ক্লাউড সিডিং’-এর মতো ব্যতিক্রমী পদক্ষেপও নেয়। সম্প্রতি তার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হলেও তাতে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির দেখা মেলেনি। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই তিনটি ব্যর্থ ট্রায়ালে প্রায় ১.০৭ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু দূষণ কমার বদলে আরও বেড়েছে। এমনকি প্রাক্তন আইপিএস অফিসার ও বিজেপি নেত্রী কিরণ বেদি সম্প্রতি দাবি করেছেন, দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা কোভিডের সময়কার অবস্থার মতোই ভয়াবহ।

Related Articles