দেশ

All India Tiger Estimation 2026: বাঘের ডেরায় এবার ‘হাই-টেক’ নজরদারি, ইন্দোরে শুরু হল ২০২৬-এর সর্বভারতীয় বাঘ শুমারি

১৮ থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে মধ্যপ্রদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলে বাঘের সংখ্যা, শিকারযোগ্য প্রাণীর ঘনত্ব এবং জঙ্গলের সার্বিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

Truth of Bengal: ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু করে বৃহস্পতিবার ইন্দোর বনবিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল অল ইন্ডিয়া টাইগার এস্টিমেশন (এআইটিই) ২০২৬ বা সর্বভারতীয় ব্যাঘ্র শুমারি। ১৮ থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে মধ্যপ্রদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলে বাঘের সংখ্যা, শিকারযোগ্য প্রাণীর ঘনত্ব এবং জঙ্গলের সার্বিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

২০২২ সালের পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছিল মধ্যপ্রদেশে বাঘের সংখ্যা ৫২৬ থেকে বেড়ে ৭৮৫ হয়েছে, যা মাত্র চার বছরে ২৫৯টি বাঘের এক অভাবনীয় বৃদ্ধি। জাতীয় স্তরেও বাঘের সংখ্যা ২০১৮ সালের ২,৯৬৭ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ৩,১৬৭-এ দাঁড়িয়েছে। বিশেষত মধ্যপ্রদেশের ২৩৭টি বাঘ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাইরে সাধারণ বনভূমিতে শনাক্ত হয়েছে, যা সামগ্রিক প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

এই বিশাল জরিপ কাজ পরিচালনার জন্য ইন্দোর বনবিভাগ প্রায় ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে ৭০০টি ক্ষুদ্র গ্রিডে ভাগ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সায়েন্টিফিক ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়া বাঘের শরীরের ডোরাকাটা দাগ বিশ্লেষণ করে তাদের স্বতন্ত্রভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি (এনটিসিএ) এবং ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (ডব্লিউআইআই) যৌথভাবে এই পুরো প্রক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক মান তদারকি করছে।

মাঠ পর্যায়ের এই কাজে অভিজ্ঞ জীববিজ্ঞানীদের তত্ত্বাবধানে প্রায় ২০০ জন বনকর্মী যুক্ত রয়েছেন। তারা কেবল বাঘের ছবিই তুলছেন না, বরং পায়ের ছাপ বা পাগমার্ক, বিষ্ঠা এবং বাঘের আঁচড় বা স্ক্র্যাপের মতো পরোক্ষ প্রমাণও সংগ্রহ করছেন। এ ছাড়া স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে বনাঞ্চলের ঘনত্ব এবং বাস্তুতন্ত্রের মান যাচাই করা হচ্ছে।

জরিপ শুরুর আগে বনকর্মীদের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডিএনএ স্যাম্পলিং এবং থ্রি-ডি মডেলিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাঘের ডোরাকাটা নকশা নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করার পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে একটি মহড়ার মাধ্যমে কর্মীদের এই কাজে দক্ষ করে তোলা হয়। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষ হলে সমস্ত তথ্য জাতীয় তথ্যভাণ্ডারে জমা দেওয়া হবে এবং একই বছরের জুলাই মাসে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে।

Related Articles