দেশরাজনীতি

সংখ্যাতত্ত্বে বিশ্বাসী বিজেপি! ইন্ডিয়া জোটে চাপে এনডিএ

NDA Strategy

The Truth of Bengal: বিরোধী জোট ইন্ডিয়াকে টেক্কা দিতে আরও বেশি শরিক-জোগাড় করছে বিজেপি। এনডিএ- জোটের বহর বাড়িয়ে রাজনৈতিক ওজন বাড়াতে চাইছে ভারতীয় জনতা পার্টি। পর্যবেক্ষকরা বলছেন,বিরোধীদের ২৬ দলকে টেক্কা দিতে বিজেপির ট্রাম্প কার্ড ৩৮ শরিকের চমক। রাজনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, জোট রাজনীতির যুগে আসলে ওয়ান ইজ টু ওয়ানের ফর্মূলায় প্যাঁচে পড়েছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন   বিজেপি। তাই সংখ্যা বাড়িয়ে সংসদীয় পার্টিগণিতের অঙ্ক মেলানোর চেষ্টায় তাঁরা। প্রশ্ন উঠছে, শরিক ভিড়িয়ে কী চব্বিশের বৈতরণী পার করতে পারবেন মোদি–শাহরা? নাকি কূল-কিনারা না করতে পেরে গেরুয়ারাজের সূর্যাস্ত অবধারিত?

জাতীয় রাজনীতিতে একলা চলোর  দিন প্রায় শেষ বলাই যায়। জোট রাজনীতির বাস্তবতা মেনেই জাতীয় দলগুলোকে চলতে হচ্ছে।ভারতীয় রাজনীতির অতীতে নজর রাখলে বলাই যায়, ১৯৮৯এ ন্যাশানাল ফ্রন্ট্রের মাধ্যমে জোট সরকারের পরীক্ষা শুরু হয়।যদিও বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন  সেই  সরকার বেশিদিন টেকেনি। এরপর বাজপেয়ী –আদবাণীরা ন্যাশানল ডেমোক্রাটিক অ্যালায়েন্স তৈরি করে বিজেপিকে বড় দাদা বানান।মেনে নেন জোটের সমীকরণ বজায় রেখেই কেন্দ্রে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে। বিজেপির মতোই ২০০৪এ কংগ্রেসও ইউপিএ বা ইউনাইটেড প্রোগেসিভ অ্যালায়েন্স গঠন করে।

এখন সেই ইউপিএ-র বদলে বিরোধীরা তৈরি করেছে ইন্ডিয়া বা ইন্ডিয়ান ন্যাশানাল ডেভালপমেন্টাল ইনক্লসিভ অ্যালায়েন্স।এখন ইণ্ডিয়া ব্যানারেই লড়তে চায় কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেস-বাম-জেডিইউ-সমাজবাদী পার্টির মতো ২৬টি দল । সেই ইন্ডিয়া জোটের সম্মলিত চাপে এখন বিজেপির ঘুম ছোটার জোগাড়।এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিরোধী জোটকে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেছেন।জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে বিরোধীদের জোটকে তুলনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন বলে বিরোধীদের দাবি। এনডিএ-র শরিকদের ভোকাল টনিক দিতে গিয়ে ভাঙলেও তিনি যে মোচকাচ্ছেন না, এককাট্টা বিরোধীদের জোটকে সংখ্যার নিরিখে পিছিয়ে রাখতেও পিছপা হচ্ছেন না মোদি–শাহরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যাঁদের সমর্থনের ভিত নেই তাঁদের সংখ্যার জাদুতে তাক লাগানোর কৌশল কেন নেওয়া হচ্ছে? উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের প্রাক্তন সহযোগী মহান দল এবং বিহারের বিকাশশীল ইনসান পার্টি (ভিআইপি)কে এনডিএ বা জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটে অর্ন্তভূক্ত করারও প্রয়াস জারি। হাতে আর ৮মাস বাকি,লোকসভার মেগা লড়াইয়ের আগে এখন শাসকের মতোই বিরোধী শিবিরও মাস্টার স্ট্রোক দেওয়ার পথে।তার আগে স্নায়ুর চাপ বাড়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মেজাজ হারাচ্ছেন।মুখে বিরোধীদের দেশবিরোধী সংস্থার সঙ্গে তুলনা টানতেও দ্বিধা করছেন না।

যদিও বিরোধী শিবিরের অন্যতম মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন,ইন্ডিয়া জোটকে মানুষ গ্রহণ করেছে,  প্রধানমন্ত্রী নিজের বোধহয় পছন্দ হয়েছে। বিরোধীদের আরও প্রশ্ন, ইন্ডিয়াকে নিয়ে প্যাঁচে পড়ে বিজেপি জোট ভারী করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপি শরিকের সংখ্যা বাড়িয়েও ভোট শতাংশে এগিয়ে না থাকলে কাজের কাজ হবে না।ইতিমধ্যে মোদির জনপ্রিয়তা কমেছে।উত্তরপ্রদেশ-গুজরাট বাদে অন্যরাজ্যে রাহুলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বাড়ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্য নেতাদের মুখও গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।  লোকসভায় তাই জনভিত্তি ধরে রাখা বিজেপির যে বড় সঙ্কট তা বলাই যায়।

Related Articles