দিল্লিতে হুড়মুড়িয়ে ভাঙল পাঁচতলা বাড়ি, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকার আশঙ্কা
ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন এবং কয়েকজনের মৃত্যুর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না
Truth of Bengal: দেশের রাজধানীতে শনিবার সন্ধেয় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে গেল। দক্ষিণ দিল্লির মেহরাউলি এলাকায় আচমকা হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল একটি বিশাল পাঁচতলা বাড়ি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করে ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে চারজনকে জীবন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন এবং কয়েকজনের মৃত্যুর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল ৭টা ৪৪ মিনিট নাগাদ মেহরাউলির সাঈদুল আজাব এলাকায় অবস্থিত ওই পাঁচতলা আবাসনটি আচমকা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। সন্ধের সময় হওয়ায় সেই মুহূর্তে বাড়ির ভেতরে বেশ কয়েকজন বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, আচমকা একটি বিকট শব্দ শুনতে পান তাঁরা, এবং চোখের পলকে ধুলোর মেঘে ঢেকে গিয়ে আস্ত আবাসনটি মাটিতে মিশে যায়। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারাই। তাঁরাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। এর পরপরই খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকলে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), দমকলের একাধিক ইঞ্জিন এবং পুলিশ আধিকারিকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনও পর্যন্ত যে ৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁরা সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রশাসনের অন্দরের খবর, বাড়িটি যেহেতু ৫ তলা ছিল, তাই নিচতলায় বা অন্যান্য ফ্লোরে এখনও অনেকে আটকে রয়েছেন। গ্যাস কাটার এবং জেসিবি (JCB) দিয়ে সাবধানে কংক্রিটের স্ল্যাব সরিয়ে আটকে থাকা মানুষদের বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কী কারণে এই বহুতলটি এভাবে ভেঙে পড়ল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। বাড়িটি কত বছরের পুরনো ছিল, সেটির নির্মাণশৈলীতে কোনও গলদ ছিল কি না, কিংবা সম্প্রতি বেআইনিভাবে কোনও অতিরিক্ত নির্মাণকাজ চলছিল কি না— তার কোনও স্পষ্ট তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। দিল্লি পুলিশ ও স্থানীয় পুর প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে তাঁদের একমাত্র এবং মূল লক্ষ্য হলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া প্রতিটি প্রাণকে সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করা। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পরেই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।




