দেশ

বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল, কেন্দ্রের প্রকল্পে উপকৃত ৪০ লক্ষ পরিবার

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র, যেখানে ৬ লক্ষের বেশি রুফটপ সোলার ব্যবস্থা বসানো হয়েছে।

Truth of Bengal: পরিচ্ছন্ন ও নবীকরণযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনা’ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প চালুর মাত্র দু’বছরেরও কম সময়ে দেশের ৪০ লক্ষের বেশি পরিবার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বা রুফটপ সোলার প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে। আগামী বছরের মার্চের মধ্যে এই সংখ্যা ১ কোটিতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনার সূচনা হয়। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হল ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে দেশের ১ কোটি পরিবারের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, পরিকল্পনাটি নজিরবিহীন গতিতে এগোচ্ছে। চলতি বছরের মে মাসে গড়ে প্রতি আট দিনে এক লক্ষেরও বেশি পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে।

রুফটপ সোলার স্থাপনের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে গুজরাট। সেখানে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬.৮ লক্ষ ইনস্টলেশন সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র, যেখানে ৬ লক্ষের বেশি রুফটপ সোলার ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে এই সংখ্যা প্রায় ৫.৬ লক্ষ। জ্বালানি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১৫৪ গিগাওয়াট। এর মধ্যে রুফটপ সোলার ব্যবস্থার অবদান ১১.৮ গিগাওয়াট। দেশে ইতিমধ্যে ৩২ লক্ষেরও বেশি রুফটপ সোলার ইনস্টলেশন হয়েছে। তবে ইনস্টলেশনের সংখ্যা ও সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা এক নয়। কারণ বহু ক্ষেত্রে একটি বড় রুফটপ সোলার প্রকল্প একাধিক আবাসিক ইউনিট ব্যবহার করে থাকে। বিশেষ করে অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স, কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি এবং যৌথ পরিবারগুলিতে এই প্রবণতা বেশি।

প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হল ভর্তুকি সুবিধা। ৩ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি রুফটপ সোলার ব্যবস্থা স্থাপন করলে একটি পরিবার প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পেতে পারে। কেন্দ্র সরকার এই ধরনের প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি প্রদান করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য সরকারও অতিরিক্ত ভর্তুকি দিয়ে থাকে। যদিও গ্রাহকরা চাইলে ৩ কিলোওয়াটের বেশি ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারেন, কেন্দ্রীয় ভর্তুকি কেবল ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পে মোট ২২ হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশি ভর্তুকি বিতরণ করা হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রকের দাবি, নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে বাড়ির মালিকরা অতিরিক্ত আয়ও করতে পারছেন। ফলে রুফটপ সোলার ব্যবস্থা একদিকে যেমন বিদ্যুৎ খরচ কমাচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে পরিবারের জন্য নতুন আয়ের পথও খুলে দিচ্ছে। কেন্দ্রের আশা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রকল্প দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে পরিচ্ছন্ন শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাবে।