দেশ

Digital Land Records: জমির নথির জন্য আর সরকারি দফতরে ছোটাছুটি নয়! ১৯ রাজ্যে ঘরে বসেই মিলবে বৈধ রেকর্ড

৪০৬টি জেলার ব্যাঙ্কগুলো এখন অনলাইনে বন্ধকী জমির তথ্য যাচাই করতে পারছে, যা ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়াকে অনেক দ্রুততর করে তুলেছে।

Truth of Bengal: এখন থেকে দেশের ১৯টি অঙ্গরাজ্যের নাগরিকরা ঘরে বসেই ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত এবং আইনগতভাবে বৈধ জমির নথিপত্র বা রেকর্ড ডাউনলোড করতে পারবেন। সরকারি এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষকে আর সরকারি দফতরে যেতে হবে না। এছাড়া ৪০৬টি জেলার ব্যাঙ্কগুলো এখন অনলাইনে বন্ধকী জমির তথ্য যাচাই করতে পারছে, যা ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়াকে অনেক দ্রুততর করে তুলেছে।

কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনস্থ ভূমি সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, জমির রেকর্ড ডিজিটালকরণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। বর্তমানে ভারতের ৯৭.২৭ শতাংশ গ্রামের ‘রেকর্ড অফ রাইটস’ (RoR) কম্পিউটারাইজড করা হয়েছে এবং ৯৭.১৪ শতাংশ এলাকার ক্যাডাস্ট্রাল ম্যাপ বা নকশা ডিজিটাল করা হয়েছে। এমনকি দেশের প্রায় ৮৪.৮৯ শতাংশ গ্রামে জমির টেক্সট রেকর্ডের সাথে নকশার ডিজিটাল লিঙ্কিং সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শহরাঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ‘নকশা’ (NAKSHA) পাইলট প্রোগ্রাম অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। ইতিমধ্যেই ১৫৭টি আরবান লোকাল বডির (ULB) মধ্যে ১১৬টিতে ড্রোন বা আকাশপথে ছবি তোলার কাজ শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে ৫,৯১৫ বর্গকিলোমিটার এলাকার উচ্চ-রেজোলিউশন সম্পন্ন মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে। এই প্রকল্পের নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করায় ২৪টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ১,০৫০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

জমির স্বচ্ছতার জন্য সরকার ‘ইউএলপিআইএন’ (ULPIN) বা ১৪ সংখ্যার একটি আলফানিউমেরিক কোড চালু করেছে, যাকে জমির ‘আধার কার্ড’ বলা হচ্ছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের হিসেব অনুযায়ী, ২৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রায় ৩৬ কোটিরও বেশি জমি বা ল্যান্ড পার্সেলকে এই অনন্য পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। জিও-কোঅর্ডিনেট ভিত্তিক এই ব্যবস্থার ফলে জমির মালিকানা নিয়ে বিতর্ক কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্পত্তি কেনাবেচার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে ১৭টি রাজ্যে ‘ন্যাশনাল জেনেরিক ডকুমেন্ট রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম’ (NGDRS) কার্যকর করা হয়েছে। মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব এবং হিমাচল প্রদেশের মতো রাজ্যগুলো এই তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে দেশের ৮৮.৬ শতাংশ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসকে রেভিনিউ অফিসের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে জমি রেজিস্ট্রেশন হওয়ার সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার মিউটেশন বা রেকর্ড সংশোধনের কাজ শুরু হয়ে যাচ্ছে, যা আগে সম্পূর্ণ হতে অনেক মাস সময় লাগত।

Related Articles