পেট্রল-ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রফতানিতে শুল্ক কমাল কেন্দ্র
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল এবং পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের গড় দামের ভিত্তিতে প্রতি ১৫ দিন অন্তর এই শুল্ক পর্যালোচনা করা হয়।
Truth of Bengal: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেট্রল, ডিজেল এবং অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (এটিএফ) রফতানির উপর আরোপিত বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। জারি হওয়া সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংশোধিত শুল্কহার আগামী ১ জুন থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী পাক্ষিক পর্যালোচনা পর্যন্ত বহাল থাকবে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রল রফতানির উপর শুল্ক লিটার প্রতি ৩ টাকা থেকে কমিয়ে ১.৫ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে ডিজেল রফতানির ক্ষেত্রে শুল্কের হার লিটার প্রতি ১৬.৫ টাকা থেকে কমিয়ে ১৩.৫ টাকা করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ছাড় দেওয়া হয়েছে অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের ক্ষেত্রে, যেখানে শুল্ক লিটার প্রতি ১৬ টাকা থেকে কমিয়ে ৯.৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল এবং পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের গড় দামের ভিত্তিতে প্রতি ১৫ দিন অন্তর এই শুল্ক পর্যালোচনা করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমায় রফতানির উপর শুল্কের বোঝা হালকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সংশোধন শুধুমাত্র রফতানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি হওয়া পেট্রল ও ডিজেলের বর্তমান আবগারি শুল্কে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য খুচরো জ্বালানির দামে এই মুহূর্তে কোনও সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সেই সময় দেশের বাজারে পেট্রোলিয়াম পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং অতিরিক্ত রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেট্রল, ডিজেল ও এটিএফ রপ্তানির উপর বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক এবং ‘রোড অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেস’ আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী শুল্কের হার একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে। গত ১৬ মে ঘোষিত হারের তুলনায় এবার পেট্রল, ডিজেল ও এটিএফ— তিন ক্ষেত্রেই রপ্তানি শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের চাপ কমে আসায় এই পদক্ষেপ দেশীয় তেল শোধনাগারগুলির জন্য রপ্তানির সুযোগ বাড়াবে। একই সঙ্গে দেশের বাজারে জ্বালানির সরবরাহ বজায় রেখে আন্তর্জাতিক বাজারের অনুকূল পরিস্থিতির সুবিধা নেওয়ারও চেষ্টা করছে কেন্দ্র সরকার। আগামী জুনের মাঝামাঝি সময়ে রফতানি শুল্কের পরবর্তী পর্যালোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।






