একেবারে সম্মুখসমরে তৃণমূলের দুই সাংসদ! এবার কল্যাণের বিরুদ্ধে স্পিকারকে চিঠি কাকলির
দলীয় সূত্রে খবর, বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বেশ কিছুদিন ধরেই দলের অন্দরে কিছুটা ‘বেসুরো’ ছিলেন।
Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দুই হেভিওয়েট সাংসদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দ্বন্দ্ব এবার আরও চরমে পৌঁছাল। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গালিগালাজ ও অভব্য আচরণের গুরুতর অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টে কটাক্ষের সুরে তাঁর দাবি, রাজনৈতিক বাজারে স্রেফ ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন কাকলি।
দলীয় সূত্রে খবর, বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বেশ কিছুদিন ধরেই দলের অন্দরে কিছুটা ‘বেসুরো’ ছিলেন। সম্প্রতি কল্যাণী শহরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি করেছিল। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। বুধবার দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে পাঠানো একটি চিঠিতে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন কাকলি। অল ইন্ডিয়া মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ-সহ দলের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি লেখেন, যে পদে থেকে একজন মহিলা সাংসদের প্রতি অন্য এক অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না, সেই পদে থাকার কোনও অর্থ হয় না। রাজনৈতিক মহলের মতে, চিঠিতে সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর নিশানা যে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই ছিল, তা স্পষ্ট।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে লোকসভার স্পিকারের কাছে লেখা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের লেটার হেডের একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসে। যেখানে কল্যাণের বিরুদ্ধে অভব্য ও আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ তুলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। চিঠিতে কাকলি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি একাই নন, অন্য মহিলা সাংসদদের সঙ্গেও লোকসভার ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন সময়ে আপত্তিকর আচরণ করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
পাল্টা জবাবে এই সমস্ত অভিযোগকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই ধরণের ভিত্তিহীন চিঠির আইনি ও রাজনৈতিক উত্তর তিনি যথাসময়ে দিয়ে দেবেন। তবে একই সঙ্গে চিঠির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি খোঁচা দিয়ে বলেন, চিঠিটির তারিখ দেওয়া হয়েছে ২৮ মে, ২০২৬। অথচ আজ ঈদের ছুটির দিন, এই ছুটির দিনে তিনি কীভাবে স্পিকারকে চিঠি পাঠালেন তা বোধগম্য নয়। কল্যাণের প্রশ্ন, যদি তিনি কোনও গালিগালাজ বা অভব্য আচরণ করেই থাকেন, তবে নির্দিষ্ট কোন তারিখে সেই ঘটনা ঘটেছে তা চিঠিতে উল্লেখ করা নেই কেন? তৎকালীন সময়েই বা কেন অভিযোগ জানানো হয়নি? সামগ্রিকভাবে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রচার পাওয়ার সস্তা কৌশল বলেই মনে করছে কল্যাণের শিবির।




