প্রেমিকের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে এসে সোজা বিয়ে! মণ্ডপেই চার হাত এক হল যুগলের
খড়দহ থেকে অশোকনগর, সোশাল মিডিয়ার প্রেম গড়াল পুজো প্যান্ডেলে! অবাক দর্শনার্থীরা!
Truth of Bengal: শারদোৎসবের দিনগুলিতে বাঙালির প্রেম যেন আরও একটু বেশি রঙ পায়। মণ্ডপে মণ্ডপে হাত ধরে ঠাকুর দেখা, ফুচকা খাওয়া আর মিষ্টি মুহূর্ত তৈরি করা, এই তো পুজোর আমেজ। কিন্তু খড়দহের তরুণী সৌমি দফাদারের জীবনে এবারের পুজো নিয়ে এল এক অবিশ্বাস্য ও নাটকীয় মোড়। প্রেমিকের সঙ্গে পুজো পরিক্রমায় এসে যে জীবন এভাবে ৩৬০ ডিগ্রি বদলে যাবে, তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি তিনি। পরিবারের মারধরের ভয়ে অবশেষে অশোকনগরের এক দুর্গাপুজো মণ্ডপেই ঢাকের বাদ্যি ও প্রদীপের আলোয় সম্পন্ন হল প্রেমিকের সঙ্গে তাঁর শুভ বিবাহ।
ঘটনার সূত্রপাত সোশাল মিডিয়া থেকে। খড়দহের বাসিন্দা সৌমি দফাদারের সঙ্গে সোশাল মাধ্যমে পরিচয় হয় অশোকনগরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তনু অধিকারীর। ভার্চুয়াল জগতের হালকা কথাবার্তা থেকে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব, আর তা থেকেই একসময় গাঢ় প্রেমে রূপ নেয় তাঁদের সম্পর্ক। তবে সৌমির পরিবার এই প্রণয়ঘটিত সম্পর্ক কোনওভাবেই মেনে নিতে রাজি ছিল না। কিন্তু ভালবাসার টানেই সমস্ত বাধা পেরিয়ে পুজোয় প্রেমিকের হাত ধরে ঠাকুর দেখার ইচ্ছা জাগে তরুণীর। যেমন ভাবা তেমনই কাজ, খড়দহ থেকে একাই সোজা অশোকনগর পৌঁছে যান সৌমি।
বিপত্তি ঘটে তখনই, যখন সৌমির বাড়ির লোকেরা জানতে পারেন যে মেয়ে পরিবারের অগোচরে অশোকনগরে প্রেমিকের কাছে পৌঁছে গেছে। ফোনে তীব্র বকাবকি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গৃহবন্দি হওয়া, মোবাইল কেড়ে নেওয়া ও শারীরিক নিগ্রহের ভয়ে মারাত্মক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তরুণী। কোনওমতেই আর বাড়ি না ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এই উদ্ভূত ও সংকটজনক পরিস্থিতি দেখে তনুর পাড়ার ক্লাব ‘নেতাজি সঙ্ঘের’ সদস্যরা এগিয়ে আসেন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং দু’জনের ভালবাসাকে পরিণতি দিতে দুর্গা প্রতিমার সামনেই তাঁদের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ক্লাবের সদস্য ও প্রতিবেশীরা।
মুহূর্তের মধ্যে ব্যবস্থা করা হয় নতুন শাড়ি, শাখা, টোপর ও ফুলের মালার। অষ্টমীর পূতপবিত্র লক্ষে মা দুর্গার সামনেই হিন্দু রীতিনীতি মেনে তনু ও সৌমির সিঁদুরদান ও মালাবদল সম্পন্ন হয়। পুজো মণ্ডপে উপস্থিত দর্শনার্থীরা হঠাৎ এই অভূতপূর্ব বিয়ের দৃশ্য দেখে তাজ্জব বনে যান। অনেকেই নিজের ফোনে এই বিরল মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেন। জানা গিয়েছে, বিজয়া দশমীর দিনে দুই পক্ষের ঘরোয়া সম্মতিতে ছোট করে বউভাতের অনুষ্ঠানও আয়োজিত হতে চলেছে।





