৫০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন অভিজিৎ দীপকের, শান্তিভঙ্গ না করার মুচলেকা
শুক্রবার দিল্লিতে ‘তেরঙা যাত্রা’য় যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়ই তাঁকে আটক করে পুলিশ
Truth of Bengal: ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপককে জামিন দিল দিল্লির আদালত। তবে জামিনের জন্য তাঁকে একাধিক শর্ত মেনে নিতে হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ৫০ হাজার টাকার বন্ড জমা দেওয়ার পাশাপাশি শান্তিভঙ্গ করবেন না বলে মুচলেকাতেও সই করতে হয়েছে তাঁকে। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার বিকেলে মন্দির মার্গ থানা থেকে বেরিয়ে আসেন দীপক। শুক্রবার দিল্লিতে ‘তেরঙা যাত্রা’য় যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়ই তাঁকে আটক করে পুলিশ। পরে গ্রেফতার করা হয় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতাকে। শনিবার ভোরে দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়, আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অর্থাৎ ‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’ করা হয়েছে দীপককে। পুলিশের দাবি, শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থেকেই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৭০ ধারায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতারের পর শনিবার তাঁকে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করানো হয়। সেখানেই জামিন মঞ্জুর হয় তাঁর। তবে মুক্তির আগে শান্তিভঙ্গ না করার শর্তে মুচলেকা দিতে হয় তাঁকে। নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৭০ ধারা অনুযায়ী, কোনও অপরাধ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পরোয়ানা বা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ ছাড়াও কাউকে গ্রেফতার করতে পারে পুলিশ। এদিকে, শুক্রবার দীপকের পাশাপাশি আটক করা হয়েছিল অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-এর নেত্রী নেহা বোরাকেও। শনিবার সকালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, দীপককে প্রথমে দীর্ঘক্ষণ আটক করে রাখার পর গ্রেফতার করা হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার সূত্রপাত সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে। গত সোমবার তেরঙা হাতে যন্তর মন্তরের গেট টপকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করার অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছিল, যন্তর মন্তরে আর প্রতিবাদ কর্মসূচি করা যাবে না। বিক্ষোভের জন্য রাজধানীর তিনটি নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছিল। বর্তমানে সৌরভ ও আশুতোষ দু’জনেই তিহাড় জেলে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
দুই নেতার গ্রেফতারির প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে যন্তর মন্তরের কাছে কনট প্লেসে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন দীপক। সেই কর্মসূচির আগেই তাঁর দিল্লির বাড়ির বাইরে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। জানা গিয়েছে, এনসিপি (শরদ পাওয়ার) নেতা তথা মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্দের করোল বাগের বাড়িতে ছিলেন দীপক। সেখান থেকে বেরোনোর সময়ই তাঁকে আটক করা হয়।
দীপককে আটক করার পর সিজেপির এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়েছিল, দলের প্রধানকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা তারা জানতে পারছে না। পাশাপাশি দলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়, তেরঙা হাতে হাঁটাও কি অপরাধ? আটক হওয়ার আগে দীপককেও বলতে শোনা যায়, “আমি একা, আইনও ভাঙিনি, ধরছেন কেন?” এরপর তেরঙা হাতে তাঁকে পুলিশের ভ্যানে তুলতে দেখা যায়।






