দিল্লির বিক্ষোভে ব্যাপক পুলিশি ধরপাকড়! জুলুমের প্রতিবাদ করতেই রাষ্ট্রসংঘকে পাল্টা ‘লালচোখ’ ভারতের
'অযাচিত হস্তক্ষেপ বরদাস্ত নয়!' রাষ্ট্রসংঘকে সোজাসাপ্টা কড়া বার্তা দিল নরেন্দ্র মোদি সরকার
Truth of Bengal: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র বিক্ষোভ এবং পুলিশি ধড়পাকড় ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে চরম কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হল। শনিবার যন্তর মন্তরে আয়োজিত ওই বিক্ষোভের আগে ও চলাকালীন দিল্লি পুলিশের নির্বিচার আটক অভিযানের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় রাজধানী। শনিবার রাতে বেশিরভাগ আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, সিজেপির শীর্ষ নেতা এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী-সহ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে না ছাড়ার অভিযোগ ওঠে। এই ব্যাপক পুলিশি পদক্ষেপের পরেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশন। তবে সেই আন্তর্জাতিক চাপকে পাত্তাই না দিয়ে রাষ্ট্রসংঘের মন্তব্যকে সরাসরি খারিজ করে কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছে ভারত।
শনিবার রাতে নয়াদিল্লির তরফে এক জোরালো বিবৃতিতে জানানো হয়, “ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। দেশের সংবিধান অনুযায়ী এখানে প্রত্যেকেরই শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও আন্দোলনের অধিকার রয়েছে। আমাদের বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং গণমাধ্যমও মুক্ত। প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশের মতো ভারতীয় নাগরিকরাও শৃঙ্খলার স্বার্থে যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ মেনে নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করেন। দেশের আইন মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং যেকোনও অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য আমাদের আদালত সকলের জন্য উন্মুক্ত।” এর পরেই রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনের এই উদ্বেগ ও মন্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বে ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ বলে তীব্র কটাক্ষ করে ভারত।
পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সংগঠনটিকে এক হাত নিয়ে কড়া পরামর্শ দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের দ্ব্যর্থহীন বার্তা, “নিরপেক্ষতা ও পক্ষপাতহীনতা বজায় রাখার যে প্রাথমিক দায়িত্ব আন্তর্জাতিক এই সংস্থার রয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে সংঘটিত ব্যাপক ও গুরুতর বিক্ষোভের প্রতিও তাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত।”
প্রসঙ্গত, শনিবার যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকাতে আগে থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছিল দিল্লি পুলিশ। বিমানবন্দর চত্বর থেকে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়। এর পর চার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যথাক্রমে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার-সহ একাধিক বিরোধী নেতা, আইনজীবী ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মিলিয়ে প্রায় ৩০০০ জনকে আটক করা হয় বলে খবর সামনে আসে। বিক্ষোভকারীদের এই গণ-গ্রেফতারির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রসংঘ দ্রুত আটকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছিল। তবে ভারতের স্পষ্ট জবাব বুঝিয়ে দিল, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা বা রাজনৈতিক বিষয়ে কোনও বাহ্যিক চাপ বা হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করবে না নয়াদিল্লি।






