মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ দাবি! রাষ্ট্রপতির দুয়ারে চিঠি রাহুল-মমতাদের
সাংবিধানিক প্রধানের কাছেও নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে
Truth of Bengal: নির্বাচন কমিশন অভিযানের পর এবার রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে INDIA জোট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি এবং বিরোধীদের কথিত ‘ভোটচুরি’ ইস্যু রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সামনে তুলে ধরতে চাইছেন বিরোধী নেতারা। সেই লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাতের সময় চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে বিরোধী শিবির সূত্রের খবর। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে INDIA জোটের বৈঠকেই নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি হয়েছিল। মঙ্গলবার তারই অংশ হিসেবে সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত মিছিল করেন বিরোধী সাংসদরা। এবার সাংবিধানিক প্রধানের কাছেও নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
সূত্রের দাবি, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ INDIA জোটের বিভিন্ন শরিক দলের সংসদীয় নেতারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। ৭ থেকে ৯ অক্টোবরের মধ্যে সময় চাওয়া হয়েছে বলেও খবর। লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিরোধী দলগুলির প্রতিনিধিরা একসঙ্গে রাষ্ট্রপতির কাছে যেতে পারেন। বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআর এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। সেই কারণেই জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরতে চাইছে বিরোধী শিবির।
তবে আন্দোলন শুধু দিল্লির সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না INDIA জোট। সূত্রের খবর, কথিত ‘ভোটচুরি’ ইস্যুকে তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দিতে দেশের পাঁচটি বড় শহরে পাঁচটি বৃহৎ জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। নভেম্বরের শুরুতে দিল্লিতেও একটি মেগা সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে। সেখানে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ জোটের শীর্ষ নেতাদের একমঞ্চে দেখা যেতে পারে। মঙ্গলবারই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নির্বাচন কমিশন অভিযানে নামে বিরোধীরা। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সংসদ ভবন থেকে মিছিল শুরু করেন INDIA জোটের সাংসদরা। অখিলেশ যাদব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপ্রিয়া সুলে-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা কর্মসূচিতে যোগ দেন।
কিন্তু নির্বাচন কমিশনের দফতরে পৌঁছনোর আগেই আকাশবাণী ভবনের কাছে মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। এরপর রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী সাংসদরা। একাধিক নেতাকে আটকও করা হয়। মঙ্গলবারের এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে দিনভর রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। কমিশনের দরজায় বিক্ষোভের পর এবার রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ জানানো—জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে আন্দোলনের চাপ আরও বাড়াতেই যে বিরোধীরা ধারাবাহিক কর্মসূচির পথে হাঁটছে, তা স্পষ্ট।






