Hyderabad: হায়দরাবাদে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর কবলে বৃদ্ধ, হারালেন ৭ কোটি টাকা
প্রতারকদের এই চক্রটি প্রবীণ নাগরিকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কীভাবে নিঃস্ব করে দিচ্ছে, এই ঘটনা তারই এক ভয়াবহ উদাহরণ।
Truth of Bengal: হায়দরাবাদের এক ৮১ বছর বয়সি বৃদ্ধ সাইবার অপরাধীদের কবলে পড়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা খুইয়েছেন। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সাজানো একটি ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ স্ক্যামের মাধ্যমে দীর্ঘ দুই মাস ধরে তাঁর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতারকদের এই চক্রটি প্রবীণ নাগরিকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কীভাবে নিঃস্ব করে দিচ্ছে, এই ঘটনা তারই এক ভয়াবহ উদাহরণ।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২৭ অক্টোবর। ওই বৃদ্ধের কাছে একটি হোয়াটসঅ্যাপ কল আসে যেখানে এক ব্যক্তি নিজেকে কুরিয়ার কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয়। তাকে জানানো হয় যে, মুম্বই থেকে থাইল্যান্ডের ব্যাংককগামী তার নামে বুক করা একটি পার্সেল আটক করা হয়েছে। ওই পার্সেলে মাদক দ্রব্য, একাধিক পাসপোর্ট এবং ল্যাপটপ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করে প্রতারকরা। বৃদ্ধ সরাসরি এই ঘটনার সাথে নিজের কোনো যোগসূত্র অস্বীকার করলে, মুহূর্তের মধ্যে তাকে ভয় দেখানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। তদন্তের নামে ফোনটি তথাকথিত মুম্বই পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেই ভুয়ো আধিকারিক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, আর্থিক তছরুপ এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মতো গুরুতর অভিযোগ এনে তাঁকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করার ঘোষণা দেন। তদন্তের স্বার্থে ‘আর্থিক যাচাইকরণ’ বা ফিনান্সিয়াল ভেরিফিকেশনের বাহানায় প্রথম ধাপে তাঁর কাছ থেকে ১৯ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ২৯ অক্টোবর তাঁকে ‘সিগন্যাল’ অ্যাপ ডাউনলোড করতে বাধ্য করা হয়, যাতে তাঁর গতিবিধির ওপর চব্বিশ ঘণ্টা নজরদারি চালানো যায়।
পরবর্তী কয়েক দিনে ওই অ্যাপের মাধ্যমে লাগাতার ভয় দেখিয়ে বৃদ্ধকে তাঁর দীর্ঘদিনের সঞ্চয়, ফিক্সড ডিপোজিট এবং মিউচুয়াল ফান্ড ভাঙতে বাধ্য করে প্রতারকরা। সব মিলিয়ে মোট ৭ কোটি ১২ লক্ষ টাকা বিভিন্ন দফায় হাতিয়ে নেয় তারা। প্রতারকরা বৃদ্ধকে আশ্বস্ত করেছিল যে, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলেই তাঁর সমস্ত টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে। অপরাধীদের ধূর্ততা এতটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, গত ২৯ ডিসেম্বর তাঁরা ফের বৃদ্ধের সাথে যোগাযোগ করে মামলাটি চিরতরে বন্ধ করার জন্য আরও ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা দাবি করে। এই অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার পরই ওই বৃদ্ধের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। পরে খবরের কাগজে একই ধরনের ডিজিটাল অ্যারেস্টের খবর পড়ে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। উল্লেখ্য যে, তেলঙ্গানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে সাইবার অপরাধে সে রাজ্যের মানুষ মোট ১৮৬৬ কোটি টাকা হারিয়েছেন। হায়দরাবাদ, সাইবারাবাদ এবং রাচাকোন্ডা এলাকায় ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সাইবার অপরাধের অভিযোগের সংখ্যা ২০,৫৭৪ থেকে কমে ১৫,১০৫ হলেও, আর্থিক ক্ষতির মাত্রা এখনও সাধারণ মানুষের জন্য চরম উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।






