দেশ

Delhi Teachers: টপ প্রায়োরিটি ‘কুকুর শুমারি’! শিক্ষকদের নতুন ডিউটি ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

সরকারি এই নির্দেশিকায় সাফ জানানো হয়েছে যে, এই কাজে নিযুক্ত শিক্ষকদের নাম এবং বিস্তারিত তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দিতে হবে, যা সরাসরি মুখ্যসচিবের দফতরে পাঠানো হবে।

Truth of Bengal: দিল্লি সরকারের এক সাম্প্রতিক নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এবার দিল্লির স্কুল শিক্ষকদের ওপর অর্পণ করা হয়েছে এক নজিরবিহীন দায়িত্ব— তাঁদের গুনতে হবে রাস্তার পথকুকুরদের সংখ্যা। ‘দ্য ডিরেক্টরেট অফ এডুকেশন’ (ডিওই) সমস্ত জেলার শিক্ষা আধিকারিকদের এই মর্মে নির্দেশ পাঠিয়েছে যে, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে একজন করে ‘নোডাল অফিসার’ নিয়োগ করতে হবে, যাঁদের প্রধান কাজ হবে পথকুকুর শুমারি করা।

সরকারি এই নির্দেশিকায় সাফ জানানো হয়েছে যে, এই কাজে নিযুক্ত শিক্ষকদের নাম এবং বিস্তারিত তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দিতে হবে, যা সরাসরি মুখ্যসচিবের দফতরে পাঠানো হবে। প্রশাসন এই কাজটিকে ‘টপ প্রায়োরিটি’ বা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে। সরকারের দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। বিশেষত, গত ৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি নির্দেশ এবং ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনেই শিক্ষকদের এই কাজে নামানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে স্কুল, হাসপাতাল ও জনবহুল এলাকা থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষক সমাজ। শুধুমাত্র সরকারি নয়, বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদেরও এই কাজে ব্যবহারের সংস্থান রাখা হয়েছে। দিল্লির শালিমার বাগের এক সরকারি শিক্ষিকা ঋতু সাইনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, শিক্ষকদের কোনো মতামত না নিয়েই তাঁদের ওপর এই কাজ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ শুরু করেছে ‘সরকারি স্কুল শিক্ষক সংগঠন’। সংগঠনের সদস্য কৃষ্ণা ফোগট প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষকরা যদি রাস্তার কুকুর গুনে বেড়ান, তবে শ্রেণিকক্ষে পঠনপাঠনের দায়িত্ব কে সামলাবে?

শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দাবি, প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তর বা বন দপ্তরের মতো নির্দিষ্ট বিভাগের কর্মীদের বাদ দিয়ে কেন শিক্ষকদের এই অশিক্ষক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার সদুত্তর দিতে হবে প্রশাসনকে। আদালতের নির্দেশ পালন করতে গিয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করার এই সরকারি প্রচেষ্টাকে ঘিরেই এখন তুঙ্গে বিতর্ক।

Related Articles