Mausam Noor: ঘাসফুল ছেড়ে ফের ‘হাতে’ ঝাণ্ডা ধরলেন মৌসম বেনজির নূর
এই দলবদলের ফলে মালদহের কোতোয়ালি পরিবার ফের রাজনৈতিকভাবে একজোট হয়ে কংগ্রেসের ছাতার তলায় এল, যা জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
Truth of Bengal: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় রদবদল ঘটে গেল মালদহের রাজনীতিতে। তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘ সাত বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে ফের নিজের পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরে গেলেন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নূর। শনিবার দিল্লির এআইসিসি দপ্তরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হাত শিবিরের ঝাণ্ডা তুলে নেন গনি খান চৌধুরীর এই ভাইঝি। এই দলবদলের ফলে মালদহের কোতোয়ালি পরিবার ফের রাজনৈতিকভাবে একজোট হয়ে কংগ্রেসের ছাতার তলায় এল, যা জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কংগ্রেসে যোগ দিয়েই মৌসম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে, তিনি মূলত পারিবারিক সিদ্ধান্তেই ঘরে ফিরেছেন। তিনি বলেন, “আমরা জন্মগতভাবে কংগ্রেস পরিবার। মাঝখানের কয়েক বছর তৃণমূলে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ। আমি ইতিমধ্যে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি এবং সোমবার রাজ্যসভার পদ থেকেও পদত্যাগ করব। ধর্মনিরপেক্ষতা এবং উন্নয়নই কংগ্রেসের মূল মন্ত্র, সেই আদর্শ নিয়েই আগামীতে কাজ করব।” উল্লেখ্য, দিন তিনেক আগেই তৃণমূল তাঁকে মালদহের চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটর নিযুক্ত করেছিল, কিন্তু সেই দায়িত্ব পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলে মৌসমের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে কংগ্রেসের টিকিটে উত্তর মালদহ থেকে সাংসদ হলেও ২০১৯ সালে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়ে তিনি পরাজিত হন। এরপর তৃণমূল তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠালেও ২০২৪-এর লোকসভা বা গত বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে আর লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, কোতোয়ালি পরিবারের সদস্য ঈশা খান চৌধুরী বর্তমানে দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস সাংসদ। ফলে পরিবারের দুই প্রভাবশালী সদস্য দুই মেরুতে থাকায় যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, মৌসমের প্রত্যাবর্তনে তা ঘুচে গেল।
মৌসমের এই ঘর ওয়াপসি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মালদহের কংগ্রেস কর্মীরা গনি পরিবারের পুনরায় একজোট হওয়াকে মরা গাঙে বাণ আসার মতো ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে দলের একাংশের মধ্যে সংশয় রয়েছে যে, জনভিত্তিতে আগের চেয়ে দুর্বল হওয়া মৌসম দলের কতটা শক্তিবৃদ্ধি করতে পারবেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই দলবদলকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের দাবি, মৌসমকে যথেষ্ট সম্মান দেওয়া সত্ত্বেও তিনি দল ছেড়েছেন, যা সংগঠনের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।






