দেশ

ফের দিল্লিতে বোমাতঙ্ক! একের পর এক স্কুলকে নিশানা, আতঙ্কিত অভিভাবকরা

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ দল এবং বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড দ্রুত স্কুলগুলোতে পৌঁছয়।

Truth Of Bengal: শনিবার সকালে দিল্লির বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য স্কুলে বোমা হামলার হুমকি। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দিল্লি পাবলিক স্কুল (দ্বারকা), কৃষ্ণ মডেল পাবলিক স্কুল এবং সর্বোদয় বিদ্যালয়-এর মতো প্রতিষ্ঠান এই হুমকির শিকার হয়েছে। নাজফগড় এলাকার কয়েকটি স্কুলেও একই ধরনের হুমকি আসে।

সকাল প্রায় ৬:৩০ নাগাদ দিল্লির দমকল বিভাগে নাজফগড়ের একটি স্কুল থেকে প্রথম ফোন আসে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ দল এবং বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড দ্রুত স্কুলগুলোতে পৌঁছয়। শিক্ষার্থীদের এবং কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্কুলগুলিতে বর্তমানে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে ভুয়ো ইমেল হুমকির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। গত আট মাসে প্রায় ১৫০টিরও বেশি স্কুল ও কলেজকে এভাবে নিশানা করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনাতেই সাইরেন বাজিয়ে স্কুল খালি করা, অভিভাবকদের ছুটে আসা এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষেত্রেই কোনো বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া যায়নি।

স্কুল ছাড়াও দিল্লির হোটেল, হাসপাতাল এবং আদালতও এই ধরনের ভুয়ো হুমকির শিকার হচ্ছে। এর ফলে বারবার জরুরি ভিত্তিতে জায়গা খালি করা এবং কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশি চালাতে হচ্ছে। গত ১৩ই সেপ্টেম্বর তাজ প্যালেস হোটেল এবং ম্যাক্স হাসপাতালের দুটি শাখায় বোমাতঙ্কের খবর আসে। পুলিশ এবং দমকল বিভাগ প্রোটোকল অনুযায়ী তল্লাশি চালালেও পরে প্রমাণিত হয় যে সেগুলি ভুয়ো হুমকি ছিল। গত সপ্তাহে দিল্লি হাইকোর্টও একই ধরনের হুমকির সম্মুখীন হয়, যার ফলে শুনানি স্থগিত করতে হয় এবং বিচারক ও আইনজীবীদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লি সরকার নতুন কিছু নিরাপত্তা বিধি প্রণয়ন করেছে, যা দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। এই বিধিমালাগুলো চারটি প্রধান দিকের ওপর জোর দেয়: প্রতিরোধ, প্রস্তুতি, প্রতিক্রিয়া এবং পুনরুদ্ধার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্কুলগুলোকে আরও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিয়মিত জরুরি মহড়া পরিচালনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি স্কুলকে মাসিক নিরাপত্তা প্রতিবেদন জেলা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে।

Related Articles