দেশ

Delhi Red Fort Blast: লালকেল্লা কাণ্ডে আত্মঘাতী উমরের ফোনে মিলল ‘জেহাদি’ ভিডিয়ো!

শুধু নিজে জঙ্গিমতে অনুপ্রাণিত হয়নি, বরং মুসলিম তরুণদের জেহাদে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়মিত ভিডিও বানিয়ে ‘মগজধোলাই’ করত সে।এনআইএ সূত্রের খবর, উমরের ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া ১২টি ভিডিওতে।

Truth of Bengal: দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে আত্মঘাতী হামলাকারী উমর উন-নবির ফোন ঘেঁটে জঙ্গি-উস্কানির বিস্ফোরক তথ্য হাতে পেয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তদন্তে উঠে এসেছে, বহুদিন ধরেই আত্মঘাতী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল উমর ও তার মডিউলের সদস্যরা। শুধু নিজে জঙ্গিমতে অনুপ্রাণিত হয়নি, বরং মুসলিম তরুণদের জেহাদে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়মিত ভিডিও বানিয়ে ‘মগজধোলাই’ করত সে।এনআইএ সূত্রের খবর, উমরের ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া ১২টি ভিডিওতে। কখনও আফগান মুজাহিদিন, কখনও তালিবানের উদাহরণ টেনে ভারতের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণার উসকানিও সে দিত। এখানেই শেষ নয়, নিজেও আপত্তিকর ভিডিও দেখে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ সম্পর্কে জেনেছিল উমর। উমর এই ভিডিওগুলি আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের তার সহযোগী ‘হোয়াইট কলার জঙ্গি’ সদস্যদের সঙ্গে শেয়ার করত। তদন্তে জানা গেছে, এই গ্রুপগুলিতে অনলাইনে আত্মঘাতী হামলা নিয়ে ‘সেশন’ও হত (Delhi Red)।

তদন্তকারীদের দাবি, জইশ-ই-মহম্মদের এক হ্যান্ডলার ‘হানজুল্লা’ মুজাম্মিল শাকিল নামে ধৃত চিকিৎসককে বিস্ফোরক তৈরির ভিডিও পাঠাত। নামটি ভুয়ো বলে সন্দেহ।গত অক্টোবর কাশ্মীরের নওগাঁওয়ে জইশের পোস্টারেও ছিল ‘কম্যান্ডার হানজুল্লা ভাই’-এর নাম— যা দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে।এনআইএ এখন ওই হ্যান্ডলারের প্রকৃত পরিচয় ও অবস্থান খুঁজছে।

উমর তার ভিডিও ও বার্তা পাঠিয়ে ধৃত জাসির বিলাল ওরফে দানিশকেও আত্মঘাতী হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য প্ররোচিত করেছিল। প্রথমে দ্বিধা থাকলেও পরে উমরের প্রচারেই সে রাজি হয়ে যায় বলে চ্যাটে উঠে এসেছে।বিস্ফোরণের পরিকল্পনা, অর্থসংস্থান থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা— সবকিছুতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল চার চিকিৎসকের। এনআইএ শ্রীনগর থেকে চার সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন ডা. মুজাম্মিল শেখিল গনাই (পুলওয়ামা), ডা. আদিল আহমেদ রাঠার (অনন্তনাগ), ডা. শাহিন সইদ (লখনউ) এবং মুফতি ইরফান আহমদ ওয়াগে (সোপিয়ান)। এদের মধ্যে মুজাম্মিলকে জইশের সদস্য বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশে তাঁদের হেফাজতে নিয়েছে এনআইএ (Delhi Red)।

গত ১০ নভেম্বর লালকেল্লার কাছে একটি সাদা হুন্ডাই গাড়িতে বিস্ফোরণে কাঁপে দিল্লি। ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়— আত্মঘাতী হামলাকারী ছিলেন উমর উন-নবি।এ ঘটনায়  ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছেন। সেইসঙ্গে আহত হয়েছেন ২৫ জন। এর আগেই ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার হয়েছিল ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক। তদন্তকারীদের অনুমান, দলের কয়েকজন গ্রেফতার হওয়ায় উমর ভয় পেয়ে পরিকল্পনার আগেই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেয়।এনআইএ সূত্রের দাবি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশজুড়ে বড়সড় হামলা চালানোর ছক কষছিল উমরের নেটওয়ার্ক। তবে উমরের আগেভাগের বিস্ফোরণেই সেই চক্র ভেস্তে যায়।ইতিমধ্যেই ৭৩ জন প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন জইশের আরও বড় নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন (Delhi Red)।

Related Articles