দেশ

আধার বা ভোটার কার্ড থাকলেও আপনি ভারতীয় নন! নাগরিকত্ব প্রমাণ করবেন কীভাবে?

জানিয়েছে, আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা ভোটার কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র বা পরিষেবা পাওয়ার জন্য নথি। এই নথি থাকলেই কেউ ভারতীয় হয়ে যায় না।

Truth Of Bengal: ভারতের নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ আধার কার্ড নয় (Citizenship Proof)। মঙ্গলবার SIR নিয়ে একটি শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ডকে ধরা যাবে না, এর জন্য আরও অনেক তদন্তের প্রোয়োজন। এদিকে শীর্ষ আদালতের পাশাপাশি বম্বে হাইকোর্টও একই দাবি করেছেন। তাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা ভোটার কার্ড যদি নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ না হয়, তাহলে কীভাবে প্রমাণ করবো ‘নাগরিকত্ব’?

[আরও পড়ুন: Dewald Brevis: ডেল স্টেনের চোখে ‘রিয়েল ডিল’! ১২৫ রানের ইনিংসে রেকর্ড গড়লেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস]

অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করা এক ব্যক্তির শুনানির সময় গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে বম্বে হাইকোর্ট। জানিয়েছে, আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা ভোটার কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র বা পরিষেবা পাওয়ার জন্য নথি। এই নথি থাকলেই কেউ ভারতীয় হয়ে যায় না।

বম্বে হাইকোর্ট বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে আসা এক ব্যক্তির আবেদনের ওপর শুনানি করছিল। ওই বাংলাদেশি নাগরিকের জামিন খারিজ করে দিয়ে আদালত জানায়, আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা ভোটার আইডি কার্ড শুধুমাত্র পরিচয়পত্র বা পরিষেবা পাওয়ার জন্য একটি নথি। এই নথিগুলি তৈরি করলেই কেউ ভারতের নাগরিক হয়ে যায় না (Citizenship Proof)।

ভারতের সর্বোচ্চ আদালত একাধিকবার পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নয়। সম্প্রতি বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, নির্বাচন কমিশনের দাবি একেবারেই সঠিক, আধার কখনও নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হতে পারে না। আধার আইনে কোথাও নাগরিকত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এর উল্লেখ নেই।

নাগরিকত্ব মানে কী?
নাগরিকত্ব হল এমন একটি বিশেষ অধিকার, যা একটি দেশ তার নাগরিকদের প্রদান করে। এর মাধ্যমে ব্যক্তি আইনি সুরক্ষা, চাকরির সুযোগ এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার পান। ভারতের নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫ অনুসারে, সরকার নাগরিকত্ব প্রদান ও বাতিল, উভয় ক্ষমতা রাখে। এই আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমতি নেই; অর্থাৎ, ভারতের নাগরিক অন্য দেশের নাগরিক হতে পারবেন না।

১৯৫৫ সালের আইন অনুসারে—

  1. যদি কেউ ভারতে জন্মগ্রহণ করেন, তবে তিনি ভারতীয় নাগরিক হতে পারেন।

  2. ১ জুলাই ১৯৮৭ সালের পর ভারতে জন্মালে, জন্মের সময় বাবা বা মায়ের অন্তত একজন ভারতীয় নাগরিক হলে, সেই ব্যক্তি নাগরিকত্ব পাবেন।

  3. জন্ম সনদ এই ক্ষেত্রে অন্যতম প্রমাণপত্র।

  4. বিদেশে জন্ম নিলে, বাবা বা মা ভারতীয় হলে এবং শিশুর জন্ম এক বছরের মধ্যে ভারতীয় দূতাবাসে নিবন্ধিত হলে নাগরিকত্ব মিলবে।

  5. বিদেশি নাগরিকও শর্তসাপেক্ষে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।

  6. ভারতের ভূখণ্ড সম্প্রসারণ হলে, সেই অঞ্চলের বাসিন্দারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পান।

  7. দীর্ঘদিন বসবাসের পর স্বাভাবিকীকরণ (Naturalization) প্রক্রিয়ায়ও নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব, তবে তৃতীয় তফসিলের নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে।

আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি বা রেশন কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। এর পরিবর্তে—

  1. জন্ম শংসাপত্র
  2. ডোমিসাইল বা বাসস্থান শংসাপত্র (রাজ্যে অন্তত ৩ বছর বসবাসের ভিত্তিতে)

জন্ম শংসাপত্র সাধারণত গ্রাম পঞ্চায়েত, পৌরসভা বা নগর নিগম থেকে দেওয়া হয়। যদি জন্ম শংসাপত্র না থাকে, তবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দপ্তর থেকে ‘নন-অ্যাভেলেবিলিটি সার্টিফিকেট’ নিয়ে তা তৈরি করতে হয়। বাসস্থান শংসাপত্র তৈরিতে পরিবার রেজিস্টারের কপি, জন্ম সনদ বা স্কুল সার্টিফিকেট কাজে লাগে।

Related Articles