দেশ

ডিজিটাল চ্যাটই শেষ কথা নয়: একতরফা বিবাহবিচ্ছেদের নির্দেশ বাতিল করল হাই কোর্ট

স্বামীর পেশ করা ডিজিটাল বার্তার ভিত্তিতে মানসিক নির্যাতন প্রমাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া আইনত সঠিক নয়।

Truth Of Bengal: শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ বা এসএমএস চ্যাটের ওপর ভিত্তি করে একতরফাভাবে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না – সম্প্রতি এক মামলার প্রেক্ষিতে এমনই তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, স্ত্রীর বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কেবল স্বামীর পেশ করা ডিজিটাল বার্তার ভিত্তিতে মানসিক নির্যাতন প্রমাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া আইনত সঠিক নয়।

নাশিক ফ্যামিলি কোর্টের নির্দেশ বাতিল এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল নাশিক ফ্যামিলি কোর্টে। সেখানে স্বামী তালাকের আবেদন জানিয়েছিলেন। ফ্যামিলি কোর্ট স্বামীর আবেদন মঞ্জুর করে এবং দম্পতির মধ্যে বিনিময় হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএস বার্তাগুলোকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে। নিম্ন আদালতের যুক্তি ছিল, ওই বার্তাগুলো প্রমাণ করে যে স্ত্রী স্বামীকে পুনেতে চলে যেতে বাধ্য করেছেন এবং স্বামীর পরিবারের প্রতি অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করে মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছেন। নাশিক কোর্ট মন্তব্য করেছিল, পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্য করা মানসিক নির্যাতনের শামিল। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় স্ত্রীর কোনো বক্তব্য শোনা হয়নি।

আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ আবশ্যক নিম্ন আদালতের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হলে বম্বে হাইকোর্ট তাতে দ্বিমত পোষণ করে। হাইকোর্টের বিচারকরা জানান, শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের ওপর ভিত্তি করে তালাক দেওয়া বৈধ নয়। আদালত বলেছে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে অভিযুক্ত পক্ষকে অর্থাৎ স্ত্রীকে নিজের প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। ডিজিটাল বার্তাগুলো প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু তা কোনোভাবেই একতরফা বিচারের ভিত্তি হতে পারে না।

মামলার বর্তমান পরিস্থিতি হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে নাশিক ফ্যামিলি কোর্টের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তটি বাতিল হয়ে গেছে। উচ্চ আদালত মামলাটি পুনরায় ফ্যামিলি কোর্টে ফেরত পাঠিয়েছে। এখন স্ত্রী সেখানে নিজের পক্ষ সমর্থন করার এবং স্বামীর অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রমাণ দেওয়ার আইনি সুযোগ পাবেন।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে। বর্তমান সময়ে পারিবারিক বিবাদে ডিজিটাল তথ্যের ব্যবহার বাড়লেও, এই রায় নিশ্চিত করল যে প্রযুক্তিগত প্রমাণের চেয়ে আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও উভয় পক্ষের কথা শোনার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।

Related Articles