আপ-এর অন্দরমহলে বড় রদবদল, রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার পদ থেকে সরানো হলো রাঘব চাড্ডাকে
দলীয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও সভায় চাড্ডার অনুপস্থিতি নজর কেড়েছে
Truth Of Bengal: আম আদমি পার্টির অন্দরমহলে বড়সড় রদবদল। রাজ্যসভায় দলের ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডাকে। তাঁর পরিবর্তে রাজ্যসভায় ডেপুটি লিডার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে সাংসদ অশোক মিত্তলকে। ইতিমধ্যেই রাজ্যসভা সচিবালয়ে চিঠি পাঠিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল।
দলীয় সূত্রের খবর, শুধু পদ থেকে সরানোই নয়, রাজ্যসভায় আপের বরাদ্দ সময় থেকে রাঘব চাড্ডাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ না দেওয়ার জন্যও চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে এবং চাড্ডার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। আপের তরফে নতুন ডেপুটি লিডার হিসেবে যাঁর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, সেই অশোক মিত্তল দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলেই জানা যাচ্ছে। ফলে দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যসভায় একাধিক জনস্বার্থমূলক ইস্যু তুলে ধরে যথেষ্ট আলোচনায় উঠে এসেছিলেন রাঘব চাড্ডা। গিগ কর্মীদের অধিকার, জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা, টেলিকম সংস্থাগুলির রিচার্জ বৃদ্ধির মতো বিষয় নিয়ে তিনি সংসদে সরব হন। উল্লেখযোগ্যভাবে, যে যে ইস্যুতে চাড্ডা সাম্প্রতিক মাসগুলিতে চাপ তৈরি করেছিলেন, সরকারও সেগুলিতে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। এই কারণে সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।
তবে একইসঙ্গে তাঁর সঙ্গে আপ নেতৃত্বের দূরত্ব বেড়েছে বলেও শোনা যাচ্ছিল। দলীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই আপের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রাঘবের যোগাযোগ প্রায় নেই। দিল্লির বহুল আলোচিত আবগারি নীতি মামলায় কেজরিওয়াল-সহ একাধিক নেতার স্বস্তির পরেও রাঘব চাড্ডার নীরবতা এবং প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছিল। এমনকী সোশ্যাল মিডিয়াতেও ওই বিষয়ে কোনও পোস্ট করেননি তিনি।
এছাড়াও, সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও সভায় চাড্ডার অনুপস্থিতি নজর কেড়েছে। যন্তরমন্তরে কেজরিওয়ালের জনসভা কিংবা দলীয় সাংবাদিক বৈঠক— একাধিক মঞ্চেই তাঁকে দেখা যায়নি। ফলে আপের অন্দরমহলে মতভেদ তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছিল। অন্যদিকে সামনে পাঞ্জাব ও গুজরাটের ভোটকে কেন্দ্র করে আপ নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে। কিন্তু সেই প্রস্তুতিতে রাঘবকে কোনওভাবেই যুক্ত দেখা যায়নি।





