পুত্রবধূকে ঘিরে বিবাদ! খোরপোশ নিয়ে বচসার জেরে মা-বাবাকে শেষ করে দিল ছেলে
জানা যায়, ১৩ ডিসেম্বর অম্বেশের বোন বন্দনা জাফরাবাদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন যে বাবা-মা এবং দাদা নিখোঁজ।
Truth Of Bengal: উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। মুসলিম বৌমাকে মেনে নিতে পারেননি শ্যাম বাহাদুর এবং তাঁর স্ত্রী ববিতা। বিয়ের পাঁচ বছর পরও বাবা-মায়ের চাপের মুখে অম্বেশ স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর স্ত্রী ৫ লক্ষ টাকা খোরপোশ চেয়ে ছিলেন, যা পেতে অম্বেশ বাবার কাছে হাত পাতেন। কিন্তু শ্যাম বাহাদুর পাঁচ লক্ষ টাকা ছেলের হাতে দিতে রাজি হননি। এই বিষয় নিয়ে পারিবারিক ঝগড়া তীব্র আকার নেয়।
জানা যায়, ১৩ ডিসেম্বর অম্বেশের বোন বন্দনা জাফরাবাদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন যে বাবা-মা এবং দাদা নিখোঁজ। বন্দনা জানান, ৮ ডিসেম্বর দাদা ফোন করে বলেন, মা-বাবার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে এবং তারা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। এরপর থেকে অম্বেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
পুলিশি তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। ১৪ ডিসেম্বর অম্বেশ জৌনপুরে ফিরে আসেন। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি ভেঙে পড়েন এবং বাবা-মা খুনের কথা স্বীকার করেন। অভিযোগ, অম্বেশ বাবা-মাকে নোড়া দিয়ে আঘাত করে খুন করেন এবং মাকে আহত করার পর পরবর্তীতে হত্যা করেন। পরে দু’জনের দেহ ছয় টুকরো করে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেন।
তদন্তে জানা যায়, অম্বেশ পাঁচ বছর আগে এক মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাদের দুই সন্তান রয়েছে। কিন্তু প্রাক্তন রেলকর্মী শ্যাম বাহাদুর ও ববিতা এই বিয়ে মেনে নেননি। শেষ পর্যন্ত বাবা-মায়ের চাপের মুখে স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে হয়। পরে খোরপোশ পাওয়ার জন্য অম্বেশ বাবার কাছে গিয়েও তা পাননি।
৮ ডিসেম্বর সেই ঝগড়ার সময় অম্বেশ মাকে আঘাত করে এবং চিৎকার করা বাবাকেও নোড়া দিয়ে হত্যা করে। এরপর তিনি বোনকে মিথ্যা তথ্য দেন এবং ফোন বন্ধ করে রাখেন। কিন্তু ১৪ ডিসেম্বর বাড়ি ফেরার পর আত্মীয়দের চাপের মুখে পুরো কাণ্ড স্বীকার করেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই অম্বেশকে গ্রেফতার করেছে। শ্যাম বাহাদুরের একটি দেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্য অংশগুলোর খোঁজ চলছে। ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে।






