রান্নাঘর

দার্জিলিং-এর আইকনিক গ্লেনারি’জ-এর এক কাপ চা, জিলিং চায়ে চুমুক দিতে দিতে দেখুন কাঞ্চনজঙ্ঘা

A cup of tea at Darjeeling's iconic Glenary's

The Truth of Bengal, সুমন ভট্টাচার্য: জিলিং চায়ে চুমুক দিতে দিতে দেখছেন কাঞ্চনজঙ্ঘা। কিংবা রাতে হিমালয় থেকে আসা ঠান্ডা হাওয়ায় নিজেকে পরখ করতে করতে শুনছেন ব্যান্ডের গান। অথবা এইরকম একটা রবিবারের দুপুরে একটা মোহিতোর সঙ্গে ভাল একটা স্টেক। আর মাঝে মাঝে বাইরে গিয়ে মেঘ আর কাঞ্চনজঙ্ঘার খুনসুটি দেখে নেওয়া…

গ্লেনারি’জ আপনাকে এই সব কিছু দেয়। সব মন ভাল করে দেওয়া অভিজ্ঞতা। ভুল বললাম। মন খারাপ করা দার্জিলিংয়েও গ্লেনারি’জ আপনাকে সঙ্গ দিতে পারে। অঞ্জন দত্তের গানের মতো। রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকুন। আর নিজের পছন্দমতো পানীয়ে চুমুক দিন।

দার্জিলিং গেলে তাই গ্লেনারি’জ-এ যেতেই হবে। এই শৈলশহরের সবচেয়ে আইকনিক ঠিকানা। গ্লেনারি’জ মানে তাই কোনও ফুড জয়েন্ট এর নাম নয়, একটা সংস্কৃতির সঙ্গে সহবস্থান। ব্রিটিশরা যে ভালবাসা নিয়ে এই শৈলশহরকে বানিয়েছিল, সেই সব পেলব রোমান্টিকতা, স্মৃতির সরণিকে আবার ফিরে ফিরে দেখা। সকালের ব্রেকফাস্টে সসেজ আর বেকনের সঙ্গে, দুপুরে স্টেক আর পানীয়তে চুমুক দিতে দিতে। আর রাত্রি হলে ‘টেক মি হোম’ কিংবা ‘সানশাইন অন মাই শোল্ডার’ শুনতে শুনতে হিমালয়ের হিমেল হাওয়ার সঙ্গে তরিবৎ করে কন্টিনেন্টাল কোনও ডিশ খেতে খেতে।

সত্যজিৎ রায় এই দেশের যেসব শহরকে উল্টেপাল্টে আমাদের চিনিয়েছেন, তার মধ্যে যেমন বেনারস রয়েছে, তেমনই দার্জিলিং। প্রেমে পড়া যে বারণ নয়, তা তো বাঙালি মননে গেঁথে দিল তাঁর কাঞ্চনজঙ্ঘা। আর পাহাড়, কুয়াশা, খাদের ধারের রেলিং নিয়ে দার্জিলিং নিয়ে যত অনুষঙ্গ বাঙালির মননের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে

জড়িয়ে আছে, তার অধিকাংশই সত্যজিতের সিনেমার অবদান। সেই দার্জিলিংয়ের অবশ্য গন্তব্য গ্লেনারি’জ। কী খাবেন, সেটা বড় কথা নয়। গ্লেনারি’জ-এর বারান্দায় দাঁড়িয়ে শ্বাস নেওয়াটা, চায়ে চুমুক দেওয়াটা আসলে দার্জিলিংকে চেনা। সসেজ প্ল্যাটার কিংবা বেকন তো আসলে এই গোটা চিত্রনাট্যে পার্শ্বচরিত্র, সাইড ক্যারেকটার। এটা আলাদা কথা যে সেই পার্শ্বচরিত্ররাও চমৎকার। আর প্রচলিত ধারণার বিপরীতে গিয়ে গ্লেনারি’জ-এর খাবারের দামও বেশ আয়ত্তের মধ্যে। বড় শহরের যে কোনও দোকানের চেয়ে সন্তায় স্যান্ডউইচ কিংবা পিৎজা পাওয়া যায়।

Related Articles