কলকাতা

তৃণমূলে ভাঙনের মাঝেই বড় ঘোষণা! “আমি দিদির সঙ্গেই আছি,” অবস্থান স্পষ্ট করলেন বাবুল

দুই শিবিরে বিভক্ত তৃণমূলের এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার প্রাক্তন সদস্য বাবুল সুপ্রিয়

Truth of Bengal: তৃণমূলের অন্দরে ক্রমশ বাড়ছে ভাঙন। কোয়েল মল্লিক রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছেড়েছেন, আরও তিন প্রাক্তন সাংসদ দল বদলে বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় গিয়েছেন। অন্যদিকে, এক প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদের নেতৃত্বে দলের ভাঙনও স্পষ্ট হয়েছে। কালীঘাট ও ঋতব্রত—দুই শিবিরে বিভক্ত তৃণমূলের এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার প্রাক্তন সদস্য বাবুল সুপ্রিয়। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাবুল বলেন, “দিদির জন্য খারাপ লাগছে।” একই সঙ্গে বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তাঁর বক্তব্য, তাঁরা যদি নিজেদের এতটাই জনপ্রিয় বলে মনে করেন, তা হলে বর্তমান পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নতুন করে নির্বাচনে লড়ুন। তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া বা বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখানো নেতাদের একাংশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করতে না চাওয়ার কথা জানিয়েছেন। দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্যও তাঁকে দায়ী করেছেন অনেকে। তবে তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত অধিকাংশ সাংসদ ও বিধায়ক এখনও নিজেদের পদ ছাড়েননি।

একাংশের দাবি, তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’। অন্যদিকে, কয়েকজন প্রাক্তন সাংসদ নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে বাবুল বলেন, “এত কিছু যখন বলা হচ্ছে, তা হলে পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নির্বাচনে লড়ুন। সব কাজ করে দেওয়া যায় না। তাঁরা সত্যিই জনপ্রিয় হলে নিশ্চয়ই জিতবেন।” দলের পুরনো নেতাদের বিদ্রোহ প্রসঙ্গে আবেগপ্রবণ বাবুলের বক্তব্য, “দিদির জন্য মন খারাপ হচ্ছে। যাঁদের তিনি হাত ধরে তুলে এনেছিলেন, যাঁদের উপর অগাধ বিশ্বাস করেছিলেন, তাঁরাই এখন যদি প্রশ্ন তোলেন কে আসল তৃণমূল, তা হলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়?” নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তিনি জানান, আপাতত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন এবং আগামী ছ’বছর শান্তভাবে কাজ করতে চান। রাজ্যসভায় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি তুলে ধরবেন বলেও জানান তিনি।

তবে ভবিষ্যতে বিজেপিতে যাবেন কি না, সেই প্রশ্নে সরাসরি সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি বাবুল। তাঁর কথায়, “আমি বলব না যে কোনও দিন বিজেপিতে যাব না। আমি কি মালা কিনে রেখেছি, না ওরা মালা নিয়ে অপেক্ষা করছে? এখন কিছু বলতে চাই না। নেত্রী যেমন নির্দেশ দেবেন, তেমনই কাজ করব।” একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশেও বার্তা দেন বাবুল। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতিতে যুক্ত কাউকে ছাড়া হবে না বলে ঘোষণা করেছেন। দলবদলকারী নেতাদের মধ্যেও যদি কোনও দাগি ব্যক্তি থাকেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বাবুল বলেন, “যাঁরা বারবার শিবির বদল করছেন, তাঁদের মধ্যে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কেউ থাকলে তাঁরাও যেন শাস্তি পান। সেই পদক্ষেপ দেখার জন্য বাংলার মানুষ অপেক্ষা করছেন।”

Related Articles