India Poverty: কথায় ও বাস্তবে অনেক ফারাক
Examining the gap between PM Modi’s poverty-reduction claims and World Bank estimates: 1 in 4 Indians still poor.
সুদীপ্ত দে: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন, ভারতবর্ষে গরিবের সংখ্যা একেবারে কমে গেছে (India Poverty)। অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক উন্নত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রার মান আরও উন্নত তর হয়েছে। তবে এই কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার প্রমাণ মিলল বিশ্ব ব্যাঙ্কের দেওয়া তথ্যে। ভারতবর্ষের প্রতি চারজনের মধ্যে একজন গরিব অর্থাৎ এখনও ৩৫ কোটি ভারতবাসীর অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের ব্যবস্থা হয়নি। ডাবল ইঞ্জিন সরকার অথচ ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষের সার্বিক বিকাশের কথা তারা সব সময় বলে থাকে, সেই কথা যে সম্পূর্ণ মিথ্যা তারই প্রমাণ মিলল বিশ্ব ব্যাঙ্কের দেওয়া তথ্যে।
সারা বিশ্বের কাছে জিডিপি হিসাবে চার নম্বরে থাকলেও ক্যাপিটার হিসাবে ভারতবর্ষ ১৪০ নম্বরে অবস্থান করছে । এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সারা ভারতবর্ষে ৩৫ কোটি ভারতবাসীর অবস্থা শোচনীয় (India Poverty)। না আছে তাদের পুষ্টিকর খাবার না আছে তাদের সঠিকভাবে জীবন যাপন করার জন্য বাসস্থান। না আছে তাদের কর্মসংস্থান করার জায়গা। আজ তারা অসহায় এবং অপুষ্টিতে ভুগছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের মধ্যে পেশ করছেন যে, সারা ভারতবর্ষে যে সংখ্যক গরিব মানুষ ছিল তার থেকে নাকি বেশিরভাগই গরিবি কমে গেছে। মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও সচ্ছল হয়েছে। মানুষের কর্মসংস্থান আরও দ্বিগুণ হয়েছে এবং সারা ভারতবর্ষের মানুষ আজ সুখে-সমৃদ্ধিতে আছে। কিন্তু বাস্তবে প্রধানমন্ত্রী যে সঠিক কথা বলেননি এবং ডাবল ইঞ্জিন সরকার সমস্ত ভারতবাসীর কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে সাধারণ গরিব মানুষ কীভাবে বেঁচে থাকবে, কীভাবে তারা দু’মুঠো অন্ন খেতে পাবে- তার কোনও সুবন্দোবস্ত তিনি করতে পারেনি।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ১০০ দিনের কাজের টাকা সহ বেশ কিছু প্রকল্পের টাকা কেন্দ্রীয় সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ, গরিব খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ আগামী দিনে কীভাবে বেঁচে থাকবে এই দ্রব্যমূল্যর বৃদ্ধির বাজারে, সেই নিয়ে সংশয় আছে। অথচ ডাবল ইঞ্জিন সরকার তথা এই রাজ্যের বিজেপির সমস্ত নেতৃত্ব এবং বিজেপির নির্বাচিত সংসদ তথা মন্ত্রী তারা সাধারণ মানুষের সার্বিক উন্নয়ন সার্বিক বিকাশের কথা সাধারণ মানুষের কাছে সবসময় তুলে ধরেন। আসলে সেটি সম্পূর্ণ অসত্য। তারা সবসময় মেতে থাকেন ধর্ম নিয়ে।
এই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি (India Poverty) করতে করতে সাধারণ মানুষ, কৃষক শ্রেণীর মানুষ, শ্রমিক শ্রেণীর মানুষের কথা তারা কোনওভাবেই মাথায় রাখেন না। ধর্ম দিয়ে কী করবে সাধারণ মানুষ, কৃষক-শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ? তাদের কাজের দরকার। সেই কাজ পর্যন্ত দিতে ব্যর্থ হয়েছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। নির্বাচন এলে নানান ধরনের ভুরি ভুরি উন্নয়নের কথা আপনারা শুনতে পারবেন। নির্বাচনের পরে এই সমস্ত কথা আর তাদের মুখে শোনা যায় না। তাই সাধারণ মানুষকে একবার ভাবতে হবে, বুঝতে হবে যে তাদের জীবন যাত্রার মান বিগত দিন থেকে বর্তমান দিন পর্যন্ত উন্নত হয়েছে কী হয়নি। বিগত দিনে গ্যাসের দাম যা ছিল, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যা ছিল, খাদ্যপণ্যের দাম যা ছিল- সেই দামক্রমাগত বৃদ্ধি হয়েছে না কমেছে তা হলেই বোঝা যাবে মানুষ কেমন আছে। তাই মুখে যত উন্নয়নের কথা বলুন না কেন, যত সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের সার্বিক উন্নয়ন, সার্বিক বিকাশের কথা বলুন না কেন– বাস্তবে তারা কেমন আছে সেটা বুঝতে কারও অসুবিধা হয় না।
বিগত দিন থেকে বর্তমান– সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই সমস্ত সমস্যার কথা কোনওদিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে শোনা যায়নি (India Poverty)। কন্ট্রাকচুয়াল শ্রমিকরা যে আয় করেন তাতে তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা দাঁড়িয়েছে। এই সমস্ত সাধারণ মানুষ সেখানে দাঁড়িয়ে, সেখান থেকে তাদের আগামী প্রজন্মের জন্য সুশিক্ষা দেওয়া কঠিন। গরিব খেটে খাওয়া মানুষ, শ্রমজীবী মানুষ, কন্ট্রাকচুয়াল শ্রমিকদের সরকারি, বেসরকারি ব্যাঙ্ক কোনও ভাবেই ঋণ দেয় না। অথ সমস্ত পুঁজিপতি থেকে শুরু করে উচ্চবর্ণের মানুষকে ঋণ দেওয়া হয়। সেই ঋণ আবার অনেক সময় ছাড় দেওয়া হয়। অথচ গরিব খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষকে কোনওভাবেই কখনও কোনও কিছুতে ছাড় দেওয়া হয় না। কেন্দ্রে এই সরকার থাকলে আগামী দিন সাধারণ মানুষের অবস্থা কোন দিকে যাবে সেটি দেখার।






