ভারতীয় সেনার কি অধিকার নেই ফুটবলের সব আইন কানুন বদলে দেওয়ার!
শনিবার মুখোমুখি হয়েছে বোডোল্যান্ড এফ সি ও নর্থ ইস্ট একাদশ ও শিলং লাজং এফ সি ও ইন্ডিয়ান নেভি।
জয়ন্ত চক্রবর্তী (বিশিষ্ট সাংবাদিক): আজ অর্থাৎ রবিবার ডুরান্ড ফুটবল এর ডার্বিতে মুখোমুখি হচ্ছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস এবং ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। ডুরান্ড-এর কোয়ার্টার ফাইনাল এর নক আউট ম্যাচ। যে দলটি ডার্বির এই ম্যাচে হারবে তারা এবারের ডুরান্ড (Durand Cup Derby) থেকে ছিটকে যাবে। ডুরান্ড-এর কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যায়ের এটিই শেষ ম্যাচ। চারটি কোয়ার্টার ফাইনাল। শনিবার মুখোমুখি হয়েছে বোডোল্যান্ড এফ সি ও নর্থ ইস্ট একাদশ ও শিলং লাজং এফ সি ও ইন্ডিয়ান নেভি।
[আরও পড়ুন: Washington Sundar: “অসাধারণ পরিবেশ ছিল” ইংল্যান্ড সিরিজে সাজঘরের কথা তুলে ধরলেন ওয়াশিংটন]
আজ রবিবার খেলবে জামশেদপুর এফ সি ও ডায়মন্ডহারবার এফ সি এবং মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল। কলকাতার ডার্বি ঘিরে উন্মাদনার শেষ নেই। অনলাইন আর অফ লাইন-এ রমরম করে টিকিট বিক্রির পালা চলেছে। দুটি দল-ই পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে। ক’দিন আগে কল্যাণী স্টেডিয়ামে কলকাতা লিগের আলুনি ডার্বির তুলনায় এই ডার্বি একদম হাতে গরম। কিন্তু, এই ডার্বি সংগঠনের মাঝখানে ভারতীয় সেনাবাহিনী যে একটি বিশ্ব রেকর্ড গড়ে বসে আছে তার খোঁজ কজন রাখেন? বিশ্বে এই প্রথম গ্রুপ শীর্ষে থাকা দুটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে! এর আগে বিশ্ব ফুটবলে এই ঘটনা ঘটেনি, ভবিষ্যতেও ঘটবে বলে মনে হয় না। যদি না ডুরান্ড সংগঠক ভারতীয় সেনাবাহিনীর উর্বর মস্তিস্ক প্রসূত কিছু কর্তা তৎপর হন!
গ্রুপ লিগে টপ কোনও দল কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে তা ভাবা যায়? কোয়ার্টার ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল এবং ডায়মন্ড হারবার এফ সি এবং মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস বনাম জামশেদপুর একাদশ এর ম্যাচ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু, ডুরান্ড কর্তারা যে ভেবেই রেখেছেন যে ১৭ আগস্ট তাঁরা ডার্বি (Durand Cup Derby) করবেনই। যেন তেন প্রকারে। অতএব আইন কানুন সব ভাঁড় মে যায়! যেমন করে হোক ডুরান্ড এর ডার্বি ম্যাচ করাতে হবে। তাই ড্র-এর মাধ্যমে ডুরান্ড এর কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আটটি দলকে নিয়ে গত ১২ আগস্ট ঘটা করে ক্রীড়াসূচি নির্ধারিত হল। ফলে, গ্রুপ শীর্ষে থাকা দুটি দল মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল মুখোমুখি হচ্ছে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন ক্রীড়া সূচির বিন্যাসও বিশ্ব ফুটবলে প্রথম।
ভারত বিশ্ব কাপে খেলার সুযোগ পাচ্ছে না তাতে কী হল, ফিফা রাঙ্কিং-এ ১৩৩ এ নেমে গেছে তো কী হল! ফুটবলের চলতি আইন কানুন ভাঙার ব্যাপারে ভারত তো বিশ্বের এখনম্বর হয়ে গেল! সেনা কর্তারা বুক ঠুকে বলতেই পারেন – বেশ করেছি। আমাদের টুর্নামেন্ট, আমরা যা খুশি তাই করবো! বলতেই পারেন। তাঁরা ভারতীয় সেনাবাহিনী বলে কথা! আমাদের দেশে যে কটি সাকরোসেন্ট সংস্থা আছে তার প্রধান হল ভারতীয় সেনাবাহিনী। রাত্রি দিন যাঁরা ভারতবাসীকে একটি সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে রেখেছেন, যাঁরা অতন্দ্র থাকেন বলে আমরা রাতে ঘুমাতে পারি। তারা কী কোনো অন্যায় কাজ করতে পারে? এটুকু বলতে পারি, আজ যখন ডার্বি ম্যাচ টি হবে তখন যাঁর নামে ডুরান্ড কাপ সেই সেনা কর্তা স্যার মার্টিমোর ডুরান্ড তাঁর কবরে পাশ ফিরে শোবেন!
[আরও পড়ুন: Weather Alert: কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা, টানা তিন দিন সতর্কতা!]
ফুটবল-এর প্রচলিত আইন কানুন ভাঙাটা তাঁর আত্মা কী মেনে নিতে পারবে? যে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল ফুটবল এর পান থেকে চুন খসলে প্রতিবাদে মুখর হয় তারাও চুপ! তারা বলতে পারতো নাকি আমরা গ্রুপ শীর্ষে থাকা দুটো দল, আমরা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবো কেন! তা তারা করেনি। সেনার গুঁতো বলে কথা! তাদের দেওয়া জমিতে আবার বসবাস! কে আর সাধ করে ভাড়াটিয়া হিসেবে বাড়ির মালিকের সঙ্গে ঝগড়া করতে যায়! অতএব আজ রবিবার ঘাড় গুঁজে ডার্বি (Durand Cup Derby) খেলো। একটি দল ডুরান্ড থেকে ছিটকে যাবে। তার বেশি কিছু তো হবে না। দল সমর্থক দের আবেগ না হয় মাথায় থাক! সেনা কর্তাদের ভজনা তেই মন দিই বেশি!






