ISL-এ ইতিহাস ইস্টবেঙ্গলের, মহামেডানকে ৭ গোলে বিধ্বস্ত করল লাল-হলুদ ব্রিগেড
Truth of Bengal: আইএসএলের মঞ্চে নজির গড়ল ইস্টবেঙ্গল। একতরফা ম্যাচে মহামেডানকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপার দৌড়ে জোরালো বার্তা দিল অস্কার ব্রুজোর দল। এই জয় শুধু ক্লাবের ইতিহাসেই নয়, আইএসএলের অন্যতম বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেছে। ইউসেফ এজেজারি ও আনোয়ার আলি জোড়া গোল করেন, আর সল ক্রেসপো, পিভি বিষ্ণু ও নন্দকুমার একটি করে গোল যোগ করেন।
গত কয়েক ম্যাচে খারাপ ফলের কারণে চাপ ছিল কোচ অস্কারের ওপর। তবে দুর্বল মহামেডানকে সামনে পেয়ে সেই চাপ ঝেড়ে ফেলল লাল-হলুদ ব্রিগেড। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে তারা। ইউসেফের সঙ্গে আক্রমণে ছিলেন এডমুন্ড লালরিন্ডিকা, মাঝমাঠে মিগুয়েল ফিগুয়েরা, বিপিন সিং ও বিষ্ণুরা খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন। অন্যদিকে বিদেশি ফুটবলারবিহীন মহামেডান সহজেই চাপে পড়ে যায়।
ম্যাচের ৬ মিনিটেই গোলের খাতা খোলে ইস্টবেঙ্গল। আনোয়ার আলির দূরপাল্লার শট গোলকিপার পদম ছেত্রীর হাত ফসকে জালে ঢুকে যায়। ১৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান ইউসেফ। এরপর ৩৮ মিনিটে প্রতিপক্ষের এক ফুটবলার লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আরও চাপে পড়ে মহামেডান। সেই সুযোগে পেনাল্টি থেকে গোল করেন ক্রেসপো। প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে লাল-হলুদ শিবির। ৫৫ মিনিটে আবার পেনাল্টি থেকে গোল করে ইউসেফ নিজের জোড়া গোল সম্পূর্ণ করেন। এরপর বিষ্ণু (৭৫ মিনিট) ও আনোয়ার (৭৯ মিনিট) ব্যবধান বাড়ান। শেষ মুহূর্তে নন্দকুমারের গোল ইস্টবেঙ্গলকে ৭-০ জয় এনে দেয়।
এর আগে ২০২৩ সালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে হারানো ছিল ইস্টবেঙ্গলের সবচেয়ে বড় জয়। এবার তা ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি হল। পাশাপাশি ২০১৫ সালে এফসি গোয়ার ৭-০ জয়ের রেকর্ডও স্পর্শ করল তারা।
এই জয়ের ফলে ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে উঠে এল ইস্টবেঙ্গল। তবে কোচ ও সমর্থকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে—সব ম্যাচ এত সহজ হবে না। প্রচুর সুযোগ তৈরি করলেও অনেক গোল মিস হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় ম্যাচে সমস্যার কারণ হতে পারে।
তবুও এই দাপুটে জয়ে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই ফিরে পেল লাল-হলুদ শিবির। এখন দেখার, এই ছন্দ তারা কতটা ধরে রাখতে পারে।






