সম্পাদকীয়

ডবল ইঞ্জিনের রাজ্য গুলিতে আর্থিক অস্বচ্ছতা! গল্প নেই ইডি-সিবিআই-এর

অবিজেপি রাজ্য গুলোতে পান থেকে চুন খসলেই বিপদ। এব্যাপারে চুপ বিজেপি।

ইন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক): প্রধানমন্ত্রীর নিজের রাজ্যেই তো আর্থিক বে-নিয়ম! অবাক লাগছে? অবাক তো লাগারই কথা! খাউঙ্গা নেহি, দেঙ্গা নেহি জীবনে যার মূল মন্ত্র, তাঁর নিজের রাজ্যে অনিয়মের অভিযোগ! সেই গুজরাটে আর্থিক বে-নিয়মের ঘটনা। স্বচ্ছ ভারতে অস্বচ্ছতার কালিমা। ওই ডাবল ইঞ্জিন সরকারের দৌলতে ৮ টি পুরসভাতে বছরের পর বছর ধরে কোনও অডিট হয়না। যেখানে ২ লক্ষ্য কোটি টাকার আর্থিক বে-নিয়ম। কিন্তু অবিজেপি রাজ্য গুলোতে পান থেকে চুন খসলেই বিপদ। এব্যাপারে চুপ বিজেপি।

গল্প নেই ইডি, সিবি আই-এর। পুরসভা গুলোর মধ্যে রয়েছে আমেদাবাদ, গান্ধীনগর, রাজকোট, জামনগর, ভাবনগর, জুনাগড়, সুরাট ও ভদোদরা। আর টি আই আইনে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ডিরেক্টর অব দ্য লোকাল ফান্ড অ্যাকাউন্টস – এর অফিস থেকে প্রাপ্ত জবাবে এহেন আর্থিক বেনিয়ম – এর প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে আমেদাবাদ পুরসভার বার্ষিক বাজেট ১২ হাজার কোটি টাকা, সেখানে ২০১৭ – ১৮ সাল থেকে কোনও অডিটই হয়নি। যার হিসেব বকেয়া ৫০, ০০০ কোটি টাকা। একই অবস্থা সুরাত ও ভদোদরাতেও। ৪ থেকে ৬ বছর কোনও অডিটই হয়নি। এটা হল কি করে? কেন হল? প্রশ্ন উঠছে। বিরোধীরা সোচ্চার হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যম প্রশ্ন করতে শুরু করেছে। বাংলায় এসে তো মোদিজী দুর্নীতি-দুর্নীতি-দুর্নীতি করে কান ঝালা -পালা করে দেন।

সোনার গুজরাট গড়তে না পারলেও, বাংলার মানুষকে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখান। বাংলার মানুষ কি মূর্খ? তাঁরা কোনও খবর রাখেন না? মোদিজীর রাজ্যে ১০০ দিনের কাজেও দুর্নীতি হয়েছে ব্যাপক। যার টাকার পরিমান ৭১ কোটি। মন্ত্রীর ছেলে জেলে। কিন্তু সেখানে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হয়নি। বাংলায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গুজরাটে পাহাড়প্রমান দুর্নীতি, হাতে দই পাতে দই তবু বলে কই কই। কি বলবেন মোদিজি? উত্তর আছে? সবকা সাথ সব কা বিকাশ। চোরেদেরও বিকাশ? বাংলায় প্রবাদ আছে আপনি আচরি ধর্ম অপরকে শিখায়। চালুনি সুচের বিচার করে। ডাবল ইঞ্জিন সরকার গুলোর পাহাড় প্রমান দুর্নীতি, তবু বিজেপি নেতাদের গলাবাজি বন্ধ নেই। মহারাষ্ট্রে, সেই ডাবল ইঞ্জিন সরকার, লড়কি বহিন প্রকল্পেও লক্ষ লক্ষ টাকার ঘোটালা, আর মোদিজীর সাধের প্রকল্প কিষান সম্মান-নিধি প্রকল্প। একেবারে পুকুর চুরি। যেখানে ১৭ লক্ষ ৮৭ হাজার পরিবারে স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই এই প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন।

এই প্রকল্পে অনিয়ম এমনই মাত্রা ছাড়া যে, এরকম ১ লক্ষ ৭৬ হাজার পরিবার রয়েছে যেখানে নাবালক ও অন্যান্যরা এই টাকা পাচ্ছে। জমি রেজিস্ট্রেশন হওয়ার পরও জমির পুরনো মালিক টাকা পাচ্ছেন। মোদ্দা কথা একই জমির ওপর পুরনো-নতুন মালিক এই সুবিধা ভোগ করছেন। বহু পরিবারের কোনও তথ্য নেই সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে। ৮ লক্ষ নতুন পুরনো জমির মালিক টাকা পেয়েছেন। এই প্রকল্পে প্রচুর গরমিল, আকাশ ছোঁয়া দুর্নীতি। কিন্তু ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ক্ষেত্রে তো কোনও তদন্ত হবে না। সে কেন্দ্র হোক বা রাজ্য। কি নির্লজ্জ এরা? লজ্জা, ঘৃণা, ভয় তিন থাকতে নয়। মোটা চামড়া যাদের গায়ে, তাদের তো গায়ে আঁচ লাগে না।

পাতলা চামড়া যাদের, তাঁরা ভাবেন, মান – সম্মানকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ওরা ওইসব গায়ে মাখেন না, উল্টে তাঁরা ভাল লোকদের ফাঁসান, অকথা – কুকথা বলেন, হেনস্থা করেন, মান – সম্মান হানি করেন। যাঁরা দুর্নীতিমুক্ত সরকার গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেছিল। বছরে ২ কোটি চাকরি, গরীব মানুষদের জন্য প্রতি জিরো ব্যালান্স একাউন্টে মিলবে ১৫ লক্ষ টাকা, এরকমই প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু তাঁরা সেই প্রতিশ্রুতি পালন করেনি। উল্টে করোনা কালে চাকরি গিয়েছে হাজার হাজার যুবকের। এগুলো এখন অতীত। এখন তাঁদের টিঁকে থাকার নতুন কৌশল জাত – পাত – ধর্ম নিয়ে। ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলোতে স্বল্পদিনেই কত সেতু ভেঙে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে বানানোর ফলেই, এহেন অবস্থা। কিন্তু বিজেপিশাসিত রাজ্যে ইডি, সিবিআই, এন আই এ – র ভূমিকা নেই।

কার বিরুদ্ধে তদন্ত করবে সিবিআই, ইডি, এন আই এ? সর্ষের মধ্যেই তো ভুত। কিন্তু অবিজেপি রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলো তৎপর। যেমন বাংলায় হচ্ছে। ভোটের এক বছর আগে থেকে এ রাজ্যে চলছে একের পর এক এজেন্সি অভিযান। বিজেপির নিজের দুর্নীতি ঢাকতে বিরোধীদের চোর সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা। দেশে গণতন্ত্রের কফিনে তারা শেষ পেরেকটাও পুঁততে চাইছে। বিচারের বানী নিভৃতে কাঁদছে। মানুষের স্বাধীনতা আজ বিপন্ন। দেশের মানুষ তো বিজেপিকে বিশ্বাস করেছিল। প্রানভরে ভোট দিয়েছিলো।

তারা তো তখন ভাবেনি খাল কাটতে গিয়ে কুমির এসে যাবে। যাঁদের সারা শরীরে দুর্নীতির দগদগে ঘা ছড়িয়ে পড়েছে তাঁরা আজ উচ্চ শিখরে বসে নিজেদেরকে দুর্নীতি মুক্ত দাবি করে জনগণের মাঝে সততার বানী শোনাচ্ছেন? প্রশ্ন উঠছে। বিড়াল বলে মাছ খাবোনা, মাছ ছোবনা এবার আমি কাশী যাবো। একদল মানুষ নিজেরা গলা অবধি দুর্নীতির পাঁকে ডুবে মোদি বাবা পার করেগা, শাহজী বাবা পার করেগা বলে আবেগে গদগদ হয়ে মানুষের আবেগে শান দিচ্ছে, দেশের কপাল পুড়ছে, তবু মনকী রাতের ভাঁড়ামিতে সস্তায় প্রবচন মিলছে খাউঙ্গা নেহি দেঙ্গা নেহি। সত্য সেলুকাস কি বিচিত্র এই দেশ!