জনমন পেতে জাতি ভিত্তিক সমীক্ষাতে সায় কংগ্রেসের, সিঁদুরে মেঘ মণ্ডল কমিশনের ইতিহাসে
প্রায় ২০০ যুবক এর প্রতিবাদে নিজেদের গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল
The Truth of Bengal: আগামী পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন হোক বা চব্বিশের সাধারণ নির্বাচন, কংগ্রেস তথা বিরোধীজোটের হাতে এখন নতুন অস্ত্র জাত ভিত্তিক জন গণনা। সম্প্রতি নির্বাচনী জনসভাগুলিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব যেমন মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রত্যেকেই প্রতিশ্রুতি দিতে শুরু করেছেন। কেন্দ্রে ক্ষমতায় এলে, প্রতিটি রাজ্যে জাতি ভিত্তিক জনগণনা করা হবে।
২০১১ সালে শেষ জনগণনা হয়েছিল দেশে। তারপর ২০২১ সালে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জাতিগত জনগণনা নিয়ে বিশেষ পদক্ষেপ করতে চায়নি কেন্দ্র। তার কারণ ১৯৯০ সালে মণ্ডল কমিশনের রিপোর্ট লাগু হওয়ার পর যে আগুন দেশে লেগেছিল, তা চায় না কেন্দ্র। ১৯৮০ সালে মণ্ডল কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে মাথা ঘামাননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীও। কারণ তিনি আঁচ করেছিলেন, এই রিপোর্ট লাগু হলে, দেশে চূড়ান্ত অস্থিরতা তৈরি হবে। যদিও ১৯৯০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভিপি সিং সেটাই করেছিলেন। এবং তার ফলও দেখা দিয়েছিল মারাত্মক। প্রায় ২০০ যুবক এর প্রতিবাদে নিজেদের গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। এক অদ্ভুত রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল দেশে।
চব্বিশের নির্বাচনের আগে সেই ওবিসি নিয়ে ফের এক ইস্যু তৈরি করতে চাইছে বিরোধীরা। ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিনেই, বিহারে প্রকাশ করা হয় জাতিভিত্তিক সমীক্ষা রিপোর্ট। কংগ্রেসনেতা রাহুল গান্ধীও এই বিষয়কে নির্বাচনী ইস্যুও করেছেন। ১৯৮০ সালের পর থেকে দেখা গিয়েছে, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি কখনই আনুষ্ঠানিকভাবে জাত সমীক্ষাকে সমর্থন করেনি, যদিও বছরের পর বছর ধরে দেখা গিয়েছে, আগের থেকে রাজনৈতিক অবস্থান অনেকটাই বদল করেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী মন্ডল আন্দোলনের প্রেক্ষিতে, রাজ্যসভায় অনাস্থা বিতর্কের সময় জাত-ভিত্তিক সংরক্ষণের বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু মন্ডল কমিশনের রিপোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায় কার্যকর করতে গিয়ে, কংগ্রেস সময়ের সঙ্গে অবস্থান বদল করেছে। জাতি-ভিত্তিক সংরক্ষণ এবং বর্ণ গণনা সহ একটি আদমশুমারির করার দাবি জানানো হয়েছে।
ফলত চব্বিশের নির্বাচনের আগে, বিহারের মতোই, অন্য রাজ্যগুলিও যাতে জাত ভিত্তিক সমীক্ষা করে, সে বিষয়ে কংগ্রেসের তরফে উৎসাহ দেখানো হয়েছে। রাজস্থানেও, জাতিভিত্তিক সমীক্ষার যে পদক্ষেপ করতে চলেছে, তার বার্তা দিয়েছিলেন অশোক গেহলট।






