লাইফস্টাইল

ধনতেরসে সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন? গত বছরের সোনার দামের সঙ্গে আজকের তফাত জানলে চোখ কপালে উঠবে!

গত এক বছরে সোনার দামে যে উত্থান-পতন হয়েছে, তাতে এবারের ধনতেরাসে সোনা কেনা কতটা লাভজনক?

Truth of Bengal: রাত পোহালেই ধনতেরাস। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ দিনে সোনা, রুপো, বাসনপত্র কিংবা নতুন গৃহস্থালির সামগ্রী কেনা শুভ বলে মনে করা হয়। সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ধনতেরাসে মূল্যবান ধাতু কেনার রেওয়াজ রয়েছে ভারতীয় পরিবারগুলিতে। তবে অন্যান্য সামগ্রীর তুলনায় সোনা কেনার দিকেই ক্রেতাদের আগ্রহ থাকে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু গত এক বছরে সোনার দামে যে উত্থান-পতন হয়েছে, তাতে এবারের ধনতেরাসে সোনা কেনা কতটা লাভজনক? গত বছর যাঁরা সোনা কিনেছিলেন, তাঁদের বিনিয়োগের বর্তমান মূল্যই বা কত? এ বছর ৬ নভেম্বর, শুক্রবার পালিত হবে ধনতেরাস। বর্তমানে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১.৩৮ লক্ষ থেকে ১.৪১ লক্ষ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। অন্যদিকে, ২২ ক্যারেট সোনার দাম রয়েছে ১.২৭ লক্ষ থেকে ১.২৯ লক্ষ টাকার আশপাশে। তবে এই দামের সঙ্গে জিএসটি এবং গয়না তৈরির মজুরি যুক্ত হয়নি।

দাম সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমলেও গত বছরের ধনতেরাসের তুলনায় এখনও অনেকটাই চড়া সোনার দর। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ৫.৫ থেকে ৭.৬ শতাংশ। গত বছর ধনতেরাসের সময় ২৪ ক্যারেট সোনার ১০ গ্রামের দাম ছিল আনুমানিক ১.৩০ লক্ষ থেকে ১.৩৪ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, গত এক বছরে প্রতি ১০ গ্রামে সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা। ফলে গত বছর যাঁরা সোনা কিনেছিলেন, তাঁদের বিনিয়োগের মূল্য বেড়েছে ঠিকই, তবে লাভের পরিমাণ খুব বেশি নয়। এই রিটার্নকে ফিক্সড ডিপোজিট বা অন্যান্য নির্দিষ্ট আয়ের বিনিয়োগের সঙ্গে তুলনা করলে ছবিটা আরও স্পষ্ট হবে। কারণ, তুলনামূলক স্থিতিশীল রিটার্নের পাশাপাশি এ ধরনের বিনিয়োগে প্রতিদিন বাজারদরের ওঠানামার ঝুঁকিও থাকে না।

চলতি বছরের শুরুতে অবশ্য সোনার বাজার ছিল তুঙ্গে। জানুয়ারির শেষ দিকে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১.৭৫ লক্ষ টাকায় পৌঁছে সর্বকালীন রেকর্ড গড়েছিল। কিন্তু সেই উচ্চতার পর থেকেই দামে বড়সড় সংশোধন শুরু হয়। সর্বোচ্চ দর থেকে এখনও পর্যন্ত সোনার দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। শুধু অক্টোবর মাসেই দরপতনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ শতাংশ।সোনার এই দরপতন নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে এই মূল্যবান ধাতুর ভূমিকা নিয়েও। সাধারণত ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে সোনাকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু চলতি বছরের বাজারের ওঠানামা সেই প্রচলিত ধারণাকে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

তবে দাম কমেছে বলেই সোনার চাহিদা একেবারে তলানিতে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (WGC) ৩ নভেম্বর প্রকাশিত সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ফের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সোনা কিনেছেন। অর্থাৎ, সাধারণ বাজারে দামের ওঠানামা থাকলেও বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সোনা কেনার প্রবণতা এখনও বজায় রয়েছে।

Related Articles