অফবিটকলকাতা

Dhanteras Mythology: ধনতেরাসে কুবের-লক্ষ্মীর সঙ্গে কেন হয় অমৃতের দেবতা ধন্বন্তরির আরাধনা? জানেন কি?

পুরাণে হিমা নামে এক রাজার কথা উল্লেখ আছে। ন্যায়বিচার আর প্রজাদের ভালোবাসার জন্য রাজা হিমা প্রজামহলে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন।

Truth of Bengal: নবরাত্রি আর দুর্গাপুজো শেষ হয়ে যাওয়ার পর গোটা দেশ উত্সুক হয়ে অপেক্ষা করে আলোর উত্সব দীপাবলির জন্য। ধনত্রয়োদশী বা ধনতেরাস মূলত অবাঙালিদের উৎসব। অবাঙালি এই উৎসব আজ বাঙালির ঘরের উত্সব হয়ে উঠেছে। খবরের কাগজ বা টিভির পর্দায় বিজ্ঞাপনে ছাড়ের বহর দেখলেই তা মালুম হয়। গয়নার দোকানে এদিন তিল ধারণের জায়গা থাকে না। পুরাণে বলা হয়েছে সমুদ্রমন্থনের সময় মালক্ষ্মীর সঙ্গে উঠে এসেছিলেন ধনসম্পদের দেবতা কুবেরদেবও। তাই ধনতেরাসের দিন মালক্ষ্মীর সঙ্গে কুবেরের পুজো করাকে শুভ বলে মানা মালক্ষ্মীর সঙ্গে সমুদ্রমন্থনের সময় ধন্বন্তরী বা দেবকূলে যাঁকে চিকিৎসক বলে মানা হয় তিনিও উঠে এসেছিলেন। ধন্বন্তরিকে দেবতা বিষ্ণুর অবতার বলে মানা হয়। তাঁর হাতে থাকে অমৃতকলস। তাই এদিনে আয়ুর্বেদের দেবতা ধন্বন্তরির পুজো করা হয় যাতে অসুস্থতা ও কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

আরও পড়ুনঃ “পাতা পাড়লে টাকা”—লালসায় গাছে উঠে মোবাইল খোয়াল কিশোররা!

ধনতেরাসের সঙ্গে জড়িত কোন পৌরাণিক কাহিনি

পুরাণে হিমা নামে এক রাজার কথা উল্লেখ আছে। ন্যায়বিচার আর প্রজাদের ভালোবাসার জন্য রাজা হিমা প্রজামহলে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন। রাজজ্যোতিষী আগেভাগে জানিয়েছিলেন ১৬ বছর বয়সে সাপের কামড়ে মৃত্যু হবে রাজপুত্রর। এই খবর শুনে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন রাজা। ছেলের প্রাণ বাঁচাতে জ্যোতিষীর পরামর্শ মতো সৌভাগ্যশালী একটি মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেন। নবদম্পতি সুখে-শান্তিতে জীবন কাটাতে লাগল। স্বামীর ১৬তম জন্মদিনের দিন চালাকির সঙ্গে একটি পরিকল্পনা করে রাজা হিমার পুত্রবধূ। স্বামীর প্রাণ বাঁচাতে দরজার সামনে নিজের সব গয়নাগাটি স্তূপাকৃত করে রাখে সে। স্বামীকেও সারা রাত ঘুমোতে দেয়নি সে। জাগিয়ে রাখে। নিজেও সারা রাত বাড়ির মূল প্রবেশপথের বাইরে বসে পাহারা দেয়। নির্ধারিত সময় রাতে সাপের ছদ্মবেশে রাজপুত্রের প্রাণ কাড়তে হানা দেন যমরাজ। কিন্তু গয়নারস্তূপের জেরে ভেতরে ঢুকতে পারেননি যমরাজ। গয়নার জৌলুস আর জাঁকজমকে চোখ ধাঁধিয়ে যায় তাঁর। বাইরেই অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি। রাজা হিমার পুত্রবধূর গান শুনে মুগ্ধ হয়ে যান সর্পবেশী যমরাজ। এভাবেই সময় পেরিয়ে যায় রাজপুত্রের প্রাণ না নিয়েই খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হন যমরাজ। স্বামীর প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন রাজবধূ। তাই ধনতেরাসের দিন সন্ধ্যায় বাড়ির বাইরে যমদীপ জ্বালানোর প্রচলন আছে।

Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1GbdnH1jqc/

Related Articles