কলকাতা

“এখানে মূর্তি ভাঙার সাহস কারও হবে না!”, কলকাতায় পা রেখেই বাংলাদেশে জেহাদি তাণ্ডব নিয়ে বিস্ফোরক তসলিমা

তিলোত্তমায় দ্বিতীয়বার তসলিমা! ইডেনের মহালয়া শো থেকে বই প্রকাশ, কলকাতায় কী কী প্ল্যান লেখিকার?

Truth of Bengal: বাংলায় পালাবদলের পর দ্বিতীয়বারের জন্য তিলোত্তমা কলকাতায় পা রাখলেন বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। কলকাতা বিমানবন্দরে নেমেই ওপার বাংলার উগ্র ধর্মান্ধ মৌলবাদী ও জেহাদি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেন তিনি। সেই সঙ্গে কলকাতার দুর্গাপুজোর ভূয়সী প্রশংসা করে এখানকার ধর্মনিরপেক্ষ পরিবেশকে সাধুবাদ জানান তিনি।

কলকাতায় পা রেখে উচ্ছ্বসিত তসলিমা জানান, দুর্গাপুজোর আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে এবার থাকতে না পারলেও তার আগেই একাধিক সাহিত্য ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। লেখিকা বলেন, “মহালয়া উপলক্ষে ইডেন গার্ডেন্সে হতে চলা চোখধাঁধানো ড্রোন শো দেখার ইচ্ছে রয়েছে। আগামী বছর থেকে পুজোয় অবশ্যই কলকাতায় থাকব। এখানকার পুজো যেন একটা বিরাট আর্ট প্রদর্শনী!” তিনি আরও জানান, মহাজাতি সদনে তাঁর লেখা কবিতা ও গানের বিশেষ অনুষ্ঠান এবং বিডি অডিটরিয়াম ও ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে বই ও ম্যাগাজিন উন্মোচনের একাধিক কর্মসূচি রয়েছে।

বাংলাদেশ ও কলকাতায় দুর্গাপুজোর আকাশপাতাল পার্থক্যের কথা টেনে প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়ে তসলিমা ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, “বাংলাদেশের মৌলবাদী ও জেহাদি জঙ্গিরা বহু বছর ধরেই মণ্ডপে মণ্ডপে মূর্তি ভাঙচুর করে আসছে। তবে কলকাতায় পুলিশ-প্রশাসনের এমন কড়াকড়ি যে এখানে কারও সাহস হবে না মণ্ডপে ঢুকে আক্রমণ করার। বাংলাদেশের এই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সকলের রুখে দাঁড়ানো উচিত।”

পদ্মাপারে দুর্গাপুজোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল এবং জেহাদি শক্তির রমরমা নিয়ে সরাসরি ঢাকার সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন লেখিকা। তিনি তোপ দেগে বলেন, “সরকারের প্রশ্রয় পেয়েই এই জেহাদি গোষ্ঠীগুলি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বাংলাদেশকে একটি সুস্থ ও সভ্য দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এই উগ্র শক্তিকে গোড়া থেকে নির্মূল করতেই হবে।”

অন্যদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তসলিমা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামিকে যেভাবে বাংলাদেশে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, তাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় থেকে যায়। তবে সমস্ত তিক্ততা এড়িয়ে ভবিষ্যতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে বলেই আশাপ্রকাশ করেছেন তিনি।

Related Articles