দেশ

বাকি দুই কমিশনারকে অন্ধকারে রেখে একনায়কতন্ত্র! জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ প্রকাশ্যে

বাংলায় ৩৮ লক্ষ ভোটার আবেদন ঝুলে! সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখেই প্রকাশ্যে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি

Truth of Bengal: দেশের গণতন্ত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই এবার নজিরবিহীন গৃহযুদ্ধ ও আড়াআড়ি বিভাজন প্রকাশ্যে এল! বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে নিজের খামখেয়ালি ও একচ্ছত্র সিদ্ধান্তে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালাচ্ছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার, এমন মারাত্মক অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশের রাজনীতিতে। বুধবার সর্বভারতীয় সংবাদপত্র ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক বিস্ফোরক অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের ভেতরের এই অভূতপূর্ব প্রশাসনিক সংঘাতের খবর জনসমক্ষে আসে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কমিশনের দুই অন্যতম কমিশনার সুখবীর সিংহ সাঁধু এবং বিবেক জোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। এমনকি বিশেষ এক দিনেই চার-চারবার আপত্তি তুলেছিলেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের কোনও যুক্তি বা আপত্তিকেই গুরুত্ব দেননি জ্ঞানেশ কুমার। দুই কমিশনারের মূল অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলা এবং বাদ দেওয়ার কাজ সংক্রান্ত স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় তাঁদের পুরোপুরি অন্ধ করে রাখা হয়েছে। নতুন ভোটারদের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এ অভিভাবকের নাম ম্যাপিং বাধ্যতামূলক করার নির্দেশিকাকে ‘সম্পূর্ণ অবৈধ ও অননুমোদিত’ বলে অভিহিত করে সাঁধু জানান, আইন সংশোধন না করে এই ধরনের বদল সম্পূর্ণ অসঙ্গত।

শুধু ফর্ম বদল নয়, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরিতে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অনিয়ম নিয়েও সোচ্চার হয়েছেন সাঁধু ও জোশী। আগে যেখানে নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের (ERO) হাতে ‘ইআরওনেট’ পোর্টালে ভোটার তালিকা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকত, এখন ‘ইসিআইনেট’ সফ্‌টঅয়্যারের মাধ্যমে তা কেন্দ্রীভূত করে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিজি সীমা খান্নার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সাঁধুর স্পষ্ট বক্তব্য, “আইন অনুযায়ী কোনও আইটি প্রধান এভাবে ইআরও-দের অধিকার খর্ব করতে পারেন না।”

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়া পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ভোটার তালিকায় নাম তোলা ও বাদ দেওয়া নিয়ে ট্রাইবুনালের কাছে ৩৮ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। সেখানে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের অনুমতির পরেও কাদের নির্দেশে লাখ লাখ নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা হল, তা নিয়ে খোদ কমিশনের ভেতরে চিঠি দিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাঁধু। চিঠিতে তিনি লেখেন, “এই সব আবেদন করার অধিকার কমিশনকে কে দিল? আমরা বা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, কেউই এই বিষয়ে কিছুই জানি না।”

সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন একটি তিন সদস্যের সমষ্টিগত সংস্থা। সেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মর্যাদা কিঞ্চিৎ বেশি হলেও তিনি এককভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না; সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ আবশ্যিক। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিরোধী দলনেতাদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও এনডিএ সরকার যেভাবে ২:১ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এই কমিশনারদের নিয়োগ করেছিল, আজ সেই ব্যবস্থার অন্দরেই বেনজির ধস নেমেছে।

Related Articles