কলকাতা

স্টিয়ারিংয়ে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী! ইকোপার্কে ৩১ কোটির ফেনসিডিল গুঁড়িয়ে দিল শুভেন্দুর বুলডোজার

"নেশামুক্ত বাংলা গড়তে দ্বিতীয় দফায় স্ট্রাইক!" ৩ লক্ষ ১০ হাজার কাফসিরাপ ধ্বংস করে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

Truth of Bengal: ‘নেশামুক্ত ভারত’ ও অপরাধমুক্ত ‘নেশামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ার লক্ষ্যে ফের রণংদেহি মেজাজে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে সাফল্য পাওয়ার পর বুধবার দ্বিতীয় দফায় সোজা রাজারহাটের ইকোপার্কে বিশাল পরিমাণ বাজেয়াপ্ত হওয়া নিষিদ্ধ কাফসিরাপের ওপর চলল প্রকাণ্ড বুলডোজার। আর চমকপ্রদ বিষয় হল, সেই বুলডোজারের স্টিয়ারিংয়ে স্বয়ং বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! চোখের সামনে ৩ লক্ষ ১০ হাজার বোতল নিষিদ্ধ ফেনসিডিল বুলডোজারের চাকায় একনিমেষে পিষে গুঁড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে কোনও ধরনের নিষিদ্ধ কাফসিরাপ কিংবা মাদক ব্যবসা বরদাস্ত করা হবে না। এই সমাজবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কারবারীদের কোনও অবস্থাতেই ক্ষমা করা হবে না।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে ‘নেশামুক্ত ভারত ২০২৯’ কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে এ রাজ্যে দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৩১ কোটি টাকা বাজারমূল্যের মেগা মাদকের চালান ধ্বংস করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই অভিযান শেষে তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেন, “সম্প্রতি রাজ্যে ঘটে যাওয়া একাধিক অপকর্ম ও বর্বরোচিত ঘটনার দিকে তাকালে দেখা যাবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নেশায় আসক্ত অপরাধীরাই এই সমস্ত নারকীয় কাণ্ডে যুক্ত। বিশেষ করে মহিলাদের ওপর অমানবিক অত্যাচার ও অপরাধের মূল কারণই হলো এই নেশা। এই সমস্ত অসামাজিক উপাদানের জন্য রাজ্যের সুস্থ সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, নয়া সরকার গঠনের প্রথম ৫ মাসের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকারই ছিল নেশামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলা। এ রাজ্যে নিষিদ্ধ কাফসিরাপ প্রস্তুতকারী ও পাচারকারী চক্রের দিন শেষ।

এদিন ড্রাগ সিন্ডিকেটের সমস্ত রাস্তা চিরতরে বন্ধ করার কড়া বার্তা রাজ্য পুলিশ ও এসটিএফ (STF)-কে বুঝিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিশেষ টাস্ক ফোর্সের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী রাজ্য অসম থেকে এক আন্তর্জাতিক কুখ্যাত ড্রাগ মাফিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকের কালো হাত গুঁড়িয়ে দিতে রাজ্য এসটিএফ-কে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২ তারিখ বালুরঘাটে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে পাশে নিয়ে পুলিশ সুপার অফিসের সামনে খোদ মুখ্যমন্ত্রী নিজে রোড রোলার চালিয়ে কোটি কোটি টাকার নিষিদ্ধ ওষুধ ধ্বংস করেছিলেন। এবার ইকোপার্কে দ্বিতীয় দফার ধ্বংসলীলা চালিয়ে বার্তা দেওয়া হল যে, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে রাজ্য প্রশাসন কতটা আগ্রাসী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর এই ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ যে রাজ্যের সমস্ত মাদক মাফিয়া ও সীমান্ত পাচারকারীদের কাছে এক চূড়ান্ত সতর্কবার্তা, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Related Articles