‘দল চুরি করে নিচ্ছে’, মমতার পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির আঁতাত নিয়ে তীব্র তোপ রাহুলের
পশ্চিমবঙ্গের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন নির্ধারিত রয়েছে।
Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে এবার গর্জে উঠলেন কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী। কেন্দ্রীয় সরকারের ইঙ্গিতে নির্বাচন কমিশন বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে সমর্থন জানিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট ভাষায় জানান, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করার লড়াইয়ে তৃণমূল নেত্রী একা নন, গোটা দেশের ভোটাররা এবং সমস্ত বিরোধী শক্তি এই মুহূর্তে তাঁর সঙ্গে রয়েছে। মহারাষ্ট্রে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল শিবসেনা এবং এনসিপির সঙ্গে আগে যা ঘটানো হয়েছিল, ঠিক একই নাটক বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পশ্চিমবঙ্গের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন নির্ধারিত রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের কারণে দেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠী কোনও পক্ষই এই দুই উপনির্বাচনে মূল প্রতীক জোড়া ফুল ব্যবহার করতে পারছে না। কমিশন নির্দেশ দিয়েছে যে, বিতর্কিত এই বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ১৯৬৮ সালের প্রতীক বরাদ্দ সংক্রান্ত বিশেষ ধারা অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন এই স্থগিতাদেশ জারি থাকবে। যার ফলে ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে দুই গোষ্ঠীকেই ৩টি বিকল্প নাম এবং ৩টি মুক্ত প্রতীক বেছে নিতে বলা হয়েছে। মে মাসের বিধানসভা ভোটে হারের পর থেকেই বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল গঠনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে রাহুল গান্ধী কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, কোনও স্বাধীন দেশে রাজনৈতিক দল বা তাদের চিহ্ন ছিনিয়ে নেওয়া ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মারাত্মক অবক্ষয়ের লক্ষণ। নির্বাচন কমিশন তার নিজস্ব নিরপেক্ষতা হারিয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে যদি কোটি কোটি মানুষের দেওয়া ভোট চুরি হতে পারে, তবে একটি আস্ত রাজনৈতিক দলকে হাইজ্যাক করা বা চুরি করা খুব একটা অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের রায়কে বিকৃত করে ক্ষমতা দখলের এই অনৈতিক চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রতিটা সচেতন নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গণতন্ত্র বাঁচাতে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা অত্যন্ত জরুরি।






