২৮ বছর পর ঘাসফুল ছাড়াই ভোট! মমতা পাঠালেন নতুন ৩ নাম-প্রতীক, ঋতব্রতের নজর খাম আর টর্চে
এসি, বাইনোকুলার নাকি ব্ল্যাকবোর্ড? 'জোড়াফুল' ফ্রিজ হতেই নতুন প্রতীকের খেলায় কোন পথে মমতা-ঋতব্রত?
Truth of Bengal: নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ঐতিহ্যবাহী ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক ফ্রিজ হতেই চরম রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে শুরুতেই খারিজ করে আইনি লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের নির্ধারিত সময়সীমার বাধ্যবাধকতায় অবশেষে কমিশনকে নিজেদের বিকল্প নাম ও প্রতীকের তালিকা জমা দিতে বাধ্য হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, উভয় পক্ষই।
নবান্ন ও দলীয় সূত্রে খবর, কমিশনের একতরফা সিদ্ধান্তে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার রাতেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠিয়ে নিজের কড়া আপত্তির কথা স্পষ্ট করেছেন। সেই সঙ্গে ইমেলের মাধ্যমে বিকল্প তিনটি দলীয় নাম ও তিনটি সম্ভাব্য মুক্ত প্রতীকের তালিকা পাঠিয়েছেন। সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বিকল্প নামগুলি নির্বাচন করেছেন, তাতে আবেগ জড়িত রাখতে ‘ম’ অক্ষরটি বিশেষ স্থান পাচ্ছে। একই সঙ্গে কমিশনের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আগামী দিনে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার রাস্তা খোলা রাখছে কালীঘাট শিবির।
অন্যদিকে, শুক্রবার সকালেই নির্বাচন কমিশনের দফতরে নিজেদের পছন্দের তালিকা জমা দিয়েছে বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। জানা গিয়েছে, তারা দলের নতুন নাম হিসেবে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ অথবা ‘পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস’, এই দুটি নামের যেকোনো একটির দাবি জানিয়েছে। এ ছাড়া কমিশনের ১৮৪টি মুক্ত প্রতীকের তালিকা থেকে ঋতব্রত গোষ্ঠী চেয়েছে খাম, ব্ল্যাকবোর্ড এবং টর্চ। উল্লেখযোগ্যভাবে, খাম প্রতীকটি সাধারণ বিএসপি বা আইএসএফ এবং টর্চ প্রতীকটি এসইউসিআইয়ের পরিচিত প্রতীক হওয়ায় কৌশলগতভাবেই পরিচিত চিহ্ন পাওয়ার চেষ্টা করছে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৮ বছর আগে ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্নে নিজের হাতে ‘ঘাসের ওপর জোড়াফুল’ প্রতীক এঁকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আড়াই দশকের বেশি সময় পর এই প্রথমবার রাজ্যের দুটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ব্যালট পেপারে কোনও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক থাকছে না। তবে দুই পক্ষই নিজেদের নামের মধ্যে ‘তৃণমূল’ শব্দটি বজায় রাখার সুযোগ পাচ্ছে। এখন নির্বাচন কমিশন দুই শিবিরের জমা দেওয়া নথি ও পছন্দের প্রতীক খতিয়ে দেখে কোন পক্ষকে কী নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করে, তার ওপরই নির্ভর করছে উপনির্বাচনের ভাগ্য।





