রাজ্যের খবর

২৮ বছর পর জোড়াফুল চিহ্ন অতীত! এবার কোন প্রতীকে ভোটের ময়দানে তৃণমূলের দুই শিবির?

হাতে নেই জোড়াফুল!" এসি, কম্পিউটার নাকি বিস্কুট, কোন চিহ্নে লড়বে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী?

Truth of Bengal: নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন ও অন্তর্বর্তী নির্দেশে বড়সড় ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিবাদের জেরে দলের নাম ও বিখ্যাত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের ১৮৪টি মুক্ত প্রতীকের (Free Symbols) তালিকার দিকেই নজর কালীঘাট ও বিদ্রোহী ঋতব্রত শিবিরের। সেই তালিকায় রয়েছে এসি, আলমারি, আপেল, দূরবীন, কম্পিউটার, সিসিটিভি, ব্যাটারি টর্চ, কেক, ক্যাপসিকামের মতো নানা বৈচিত্র্যময় চিহ্ন।

কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী, দুই গোষ্ঠীকেই নিজেদের পছন্দের আলাদা দলীয় নামের পাশাপাশি এই ১৮৪টি মুক্ত প্রতীকের তালিকা থেকে ৩টি করে প্রতীক বেছে আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ ১৯৯৮ সালে দল প্রতিষ্ঠার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের হাতে আঁকা যে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে তৃণমূলের প্রধান পরিচয় ছিল, তা ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে ব্যালট পেপারে থাকবে না। বদলে সম্পূর্ণ অচেনা ও বিচিত্র কোনও প্রতীকে ভোটারদের দরবারে যেতে হবে উভয় পক্ষকেই। ফলে প্রতীক নির্বাচন, প্রচারের নতুন কৌশল ও ভোটারদের মধ্যে নতুন চিহ্ন পরিচিত করা নিয়ে উভয় শিবিরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশ।

দীর্ঘদিন ধরে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক, দলীয় অফিস ও তহবিলের অধিকার নিয়ে কালীঘাট পন্থী এবং বিদ্রোহী ঋতব্রত পন্থী তৃণমূলের মধ্যে আইনি লড়াই চলছিল। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সেই বিতর্কে সিলমোহর দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীনভাবে জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কমিশনের এই নির্দেশকে তীব্র আক্রমণ করে প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অনেক সময় আমাদের অন্যায় ও বেআইনি নির্দেশও আইনি বাধ্যবাধকতায় মেনে নিতে হয়। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঠিক তেমনই। রাতারাতি নতুন নাম বা প্রতীক সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো কঠিন কাজ, তবে আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব।” নতুন প্রতীক নিয়ে তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিশনকে জানানো হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক কেবল ব্যালটের একটি ছাপ নয়, এটি ভোটারদের মানসিকতার সঙ্গেও যুক্ত। এই পরিস্থিতিতে ৬ অক্টোবরের গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে কালীঘাট শিবির কোন প্রতীক বেছে নেয় এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীই বা কোন চিহ্নে লড়াইয়ে নামে, তা নিয়েই এখন সরগরম বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দ।

Related Articles