রাজ্যের খবর

“আমি তো সব জানি বলতেন উনি, কিন্তু সমবায় বোঝেনইনি!”, মধ্যমগ্রামে মমতাকে বিঁধে শুভেন্দুর বড় বার্তা

স্বজনপ্রীতি বন্ধ আর অডিটের কড়াকড়ি! মধ্যমগ্রামের মঞ্চ থেকে সমবায় সচল করতে শুভেন্দুর ২ গোল্ডেন টিপস

Truth of Bengal: রাজ্যের স্তব্ধ হয়ে যাওয়া গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন গতি দিতে সমবায়কেই মূল বিকল্প অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সমবায় ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে বাংলায় নতুন অর্থনৈতিক দিগন্তের উন্মোচন ঘটবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে এক মহিলা পরিচালিত সমবায় সমিতির বিশেষ বার্ষিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যজুড়ে সমবায় আন্দোলনকে পুনরায় চাঙ্গা করার কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই বিগত তৃণমূল জমানাকে একহাত নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় খোঁচা দেন শুভেন্দু।

শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, বিগত ১৫ বছরে রাজ্যে সমবায় আন্দোলন চরমভাবে অবহেলিত ও কোণঠাসা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক মানসিকতাকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘‘বোঝালেও উনি বুঝতেন না। কেউ কিছু বলতে গেলেই বলতেন ‘আমি তো সব জানি’। আর আমি অহংকার না করে বলি, আমি কিছুটা জানি, আর প্রতিদিন নতুন অনেক কিছুই শিখছি।’’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, সমবায় ব্যবস্থা আসলে একটি বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক আন্দোলন। রাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং নারীদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা বা ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে সমবায়ের ভূমিকা অপরিসীম। বিগত সরকার স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে একদম নিচু স্তরের প্রাইমারি সমিতিতেও বছরের পর বছর নির্বাচন বন্ধ রেখে একে ধংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। তবে বর্তমান বিজেপি সরকার সমবায়কে সর্বতোভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

সমবায় সমিতিগুলির পরিচালনা পর্ষদ বা বোর্ড অফ ডিরেক্টরসকে এদিন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমত, সমবায় সমিতি থেকে ঋণ প্রদান এবং ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে যেকোনও ধরনের স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক সংকীর্ণতা থেকে পুরোপুরি দূরে থাকতে হবে। স্বজনপ্রীতি বাড়িতে দেখানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক রঙ না দেখে নিরপেক্ষভাবে ঋণ বণ্টন করতে হবে এবং প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে অডিট প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, প্রশাসনিক খরচ বা ‘ম্যানেজমেন্ট কস্ট’ কমানোর ওপর বিশেষ জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। সহজ ভাষায় শুভেন্দুর নির্দেশ, “অনুষ্ঠানে অতিথি এলে তিনটি জিনিস দিয়ে বরণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। পকেটের অপচয় বন্ধ করতে একটি ফুলের স্টিক, একটি উত্তরীয় অথবা একটি ছোট মাতৃমূর্তি দিয়েই বরণ সারুন। কারণ এই ম্যানেজমেন্ট খরচের টাকা তো শেষ পর্যন্ত সমবায়ের সদস্য ও আপনাদের পকেট থেকেই বের হচ্ছে।”

Related Articles