রাজ্যের খবর

১০০ দিনেই দুর্নীতির কালো মেঘ? কর্মীদের উদ্দেশ্যে শমীকের কড়া ‘হুঁশিয়ারি চিঠি’ ভাইরাল!

তোলাবাজি ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রাশ টানতে মরিয়া পদক্ষেপ! দলের সব স্তরে পৌঁছাল রাজ্য সভাপতির জরুরি নির্দেশ

Truth of Bengal: রাজ্যে নতুন সরকারের একশো দিন পার হতে না হতেই ক্ষমতাসীন বিজেপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি নিয়ে উঠছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। দলের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দুর্নীতি এবং রক্তক্ষয়ী গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই বেজায় অস্বস্তিতে রাজ্য নেতৃত্ব। এই পরিস্থিতিতে দলকে সমস্ত রকম কলঙ্ক থেকে মুক্ত রাখতে এবার কঠোর থেকে কঠোরতম পদক্ষেপ নিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের সর্বস্তরের নেতা ও কর্মীদের সতর্ক করে তাঁর লেখা একটি বিশেষ ‘জরুরি চিঠি’ এই মুহূর্তে ভাইরাল বঙ্গ বিজেপির অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলিতে।

রাজ্য সভাপতির এই জরুরি বার্তায় বুথ স্তর থেকে শুরু করে রাজ্য স্তরের সমস্ত কার্যকর্তা ও কর্মী ভাই-বোনদের স্পষ্ট সম্বোধন করা হয়েছে। চিঠিতে শমীক ভট্টাচার্য স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, সততা, স্বচ্ছতা এবং আদর্শই ভারতীয় জনতা পার্টির মূল শক্তি। তিনি লিখেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিজির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং দেশসেবার সংকল্পই আমাদের কাজের প্রধান ভিত্তি। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের কিছু অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড ও আর্থিক অনিয়মের তথ্য আমার নজরে এসেছে। বুথ থেকে রাজ্য স্তর, যেকোনও সদস্যের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য, দলের নীতির বাইরে গিয়ে কেউ অনৈতিক কাজ করলে দল তার দায়ভার কখনওই নেবে না।”

বার্তায় সমস্ত স্তরের নেতৃত্ব ও কর্মীদের জন্য তিনটি কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে:

প্রথমত (জিরো টলারেন্স): দুর্নীতি বা অপকর্মের সামান্যতম প্রমাণ মিললে, পদ বা সাংগঠনিক অবস্থান নির্বিশেষে কড়া সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দ্বিতীয়ত (দলের ভাবমূর্তি): ব্যক্তিগত স্বার্থে দলের ভাবমূর্তি ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সম্পূর্ণ সতর্ক থাকতে হবে।

তৃতীয়ত (জনসেবাই মূল লক্ষ্য): সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রেখে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করাই প্রতিটি কার্যকর্তার একমাত্র দায়িত্ব।

চিঠির শেষে শমীক ভট্টাচার্য সকলের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে লেখেন, “আসুন, আমরা সবাই মিলে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে দলের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখি।” রাজনীতির ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, তৎকালীন শাসকদলের ‘দুর্নীতি ও তোলাবাজির ব্যাধি’ যাতে নতুন সরকারের চালিকাশক্তিতে সংক্রামিত হতে না পারে, তার জন্যই গোড়া থেকে এই কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। এখন দেখার, এই মরিয়া হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার পর দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা কতটা ফিরে আসে।

Related Articles