‘ছবি তুলে এলাকায় দাদাগিরি চলবে না!’ বিজেপি কর্মীদের কড়া হুঁশিয়ারি জিতেন্দ্র তিওয়ারির
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সুরেই দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেন জিতেন্দ্র
Truth of Bengal: তৃণমূল আমলের দাদাগিরি ও প্রভাব খাটানোর রাজনীতি বিজেপিতে বরদাস্ত করা হবে না—দলের কর্মীদের কড়া বার্তা দিলেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। একটি দলীয় সভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নেতাদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি কিংবা ছবি তুলে এলাকায় ক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা করলে দলে বেশিদিন জায়গা হবে না। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সুরেই দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেন জিতেন্দ্র। তাঁর বক্তব্য, ভয় দেখিয়ে, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে কিংবা ক্ষমতার দাপটে মানুষের উপর আধিপত্য বিস্তারের দিন শেষ। বিজেপির নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি বা এলাকায় দাদাগিরির চেষ্টা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
জিতেন্দ্র বলেন, “কেউ যদি মনে করেন আমার সঙ্গে ঘুরবেন, ছবি তুলবেন এবং তারপর এলাকায় গিয়ে দাদাগিরি করবেন, তা হলে তিনি বিজেপিতে বেশিদিন থাকতে পারবেন না।” দলীয় পরিচয়কে ঢাল করে বেআইনি কাজ কিংবা সাধারণ মানুষকে হেনস্তার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। বিজেপিতে রাজনীতি করতে হলে মানুষের কাছে যেতে হবে এবং তাঁদের আস্থা অর্জন করতে হবে বলে কর্মীদের জানান বিধায়ক। তাঁর মতে, ভয় বা প্রভাব নয়, জনসমর্থনই একজন রাজনৈতিক কর্মীর প্রকৃত শক্তি। মানুষের সমস্যার পাশে দাঁড়িয়ে এবং নিয়মিত জনসংযোগের মাধ্যমেই রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে হবে। দলের পতাকার নিচে যাঁরা কাজ করতে চান, তাঁদের মানুষের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ অর্জন করতে হবে বলেও বার্তা দেন জিতেন্দ্র। প্রত্যেক নাগরিককে সম্মান করা এবং তাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেন তিনি। মানুষের বিশ্বাসের ভিত্তিতে সংগঠন তৈরি হলে সেই সমর্থন দীর্ঘস্থায়ী হবে বলেও মন্তব্য করেন বিজেপি বিধায়ক।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রায় তিন মাস কেটে গিয়েছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজেপির একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দাদাগিরি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের ঘটনাকে দলের ‘বিচ্যুতি’ বলে উল্লেখ করে আগেই কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে আড়াইশোর বেশি নেতা-কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগে ২২ জনকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনও কাজ বরদাস্ত করা হবে না বলেই নেতৃত্বের তরফে বারবার জানানো হচ্ছে। সম্প্রতি জগদ্দলের বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমারও বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছিলেন। এবার একই পথে হেঁটে দলের অন্দরের অনিয়ম ও দাদাগিরির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরব হলেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তাঁর বার্তা স্পষ্ট—মানুষের আস্থা অর্জন করেই রাজনীতি করতে হবে, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নয়।






