“প্রশ্নফাঁস চরম পাপ, মিলবে না ছাড়!” মোদির ঘোষণার পরেই আইন সংশোধনীতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিলমোহর
বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হলে কাউকে রেয়াত করা হবে না
Truth of Bengal: প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে আইন সংশোধনের পথে এগোল কেন্দ্রীয় সরকার। পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪-এ সংশোধনের প্রস্তাবে সায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। চলতি বাদল অধিবেশনেই সংশোধনী বিলটি সংসদে পেশ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। এর আগেও প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে ‘ঘোর পাপ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। এবার সেই ধরনের অপরাধে দ্রুত বিচার এবং আরও কঠোর সাজা নিশ্চিত করতেই আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রের।
গত ৩ মে সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। পরিস্থিতির জেরে পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ। ঘটনার পর দেশজুড়ে পড়ুয়া ও বিরোধী দলগুলির প্রতিবাদ শুরু হয়। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও ওঠে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হতাশায় একাধিক পড়ুয়া চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনার নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই সরকার পদক্ষেপ করেছে। ইতিমধ্যে ১৩ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শুধু তদন্ত নয়, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে এই অপরাধ রুখতে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা আনার আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। সেই ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাবলিক এক্সামিনেশনস আইন সংশোধনের প্রস্তাব পেশ করা হয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর বিলটি চলতি বাদল অধিবেশনে সংসদে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, সোমবারই সংশোধনী বিল পেশ করা হতে পারে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় অসাধু উপায় অবলম্বনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
কোনও পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশ প্রমাণিত হলে শাস্তির মাত্রা আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের পাঁচ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে এক কোটি টাকা বা তারও বেশি জরিমানা ধার্য করার প্রস্তাব রয়েছে। গুরুতর বা সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে জরিমানার অঙ্ক সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলেও সংশোধনী প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে। প্রশ্নফাঁস চক্রের আর্থিক ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক ভাঙতেই এমন কঠোর বিধান আনা হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি।




