প্রতিবাদের নামে অসভ্যতা চললে সোজা হাজতবাস! ডিম-হামলা থেকে কাউন্সিলরকে রক্ষা ডানকুনির আইসি-র
হাতে হাতে কাঁচা ডিম, টার্গেট তৃণমূল কাউন্সিলর! ডানকুনির সুভাষপল্লিতে তুলকালাম কাণ্ড
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই বাংলার জেলায় জেলায় রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রতিবাদের ভাষা আমূল বদলে গিয়েছে। তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার বা দেখলেই ‘চোর-চোর’ স্লোগান এবং তাঁদের লক্ষ্য করে কাঁচা ডিম ছোড়া এখন যেন এক নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধৃত নেতাদের আদালত বা থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় সেই ডিম গিয়ে পড়ছে খোদ পুলিশের গায়েও! প্রতিবাদের এই ‘ডিম-সংস্কৃতি’ বন্ধ করতে এবার রীতিমতো মাইক হাতে রাস্তায় নামতে হলো এক পুলিশ আধিকারিককে। হুগলির ডানকুনি পুরসভার এক তৃণমূল কাউন্সিলরকে ডিম ছুড়ে অপদস্থ করার জন্য যখন মারমুখী জনতা তৈরি, ঠিক তখনই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভকারীদের কড়া সতর্কবার্তা দিলেন ডানকুনি থানার আইসি শান্তনু সরকার।
ঘটনার সূত্রপাত ডানকুনির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সুভাষপল্লিতে। এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ওয়ার্ডের জলনিকাশি ব্যবস্থা পুরোপুরি বেহাল। তার ওপর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহ করছেন না পুরসভার সাফাইকর্মীরা। এই তীব্র ক্ষোভ উগরে দিতেই মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এলাকাবাসী। বেগতিক দেখে কাউন্সিলর বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতেই ক্ষুব্ধ নাগরিকদের সঙ্গে তাঁর তুমুল বাক্বিতণ্ডা শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি চরম রূপ নেয়। আচমকা কাউন্সিলরের মাথা লক্ষ্য করে একের পর এক কাঁচা ডিম ছুড়তে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ডানকুনি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
“অসভ্যতা করলে রেয়াত নয়”, মাইকিং আইসি-র
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে ডানকুনি থানার আইসি শান্তনু সরকার নিজেই মাইক হাতে তুলে নেন। জনতাকে শান্ত হওয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি স্পষ্ট বলেন, “ডানকুনিবাসী চিরকাল সভ্যতা ও ভদ্রতার পরিচয় দিয়ে এসেছেন। প্রতিবাদের নামে এখানে অসভ্যতা করলে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। ডিম ছুড়ে রাগ মেটানো যায়, কিন্তু বিচার পাওয়া যায় না।”
ক্যামেরায় বন্দি বিক্ষোভকারীরা, উদ্ধার কাউন্সিলর
আইসি-র এই কড়া বার্তার পরেও দেখা যায়, বেশ কয়েকজন মহিলা ডিম হাতে নিয়ে কাউন্সিলরের দিকে তাক করে অনড় দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তখন আইসি শান্তনু সরকার তাঁদের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “মারুন-মারুন! এতে আপনারা বিচার পাবেন বলে মনে করেন?” একই সঙ্গে আইন হাতে তুলে নেওয়া সেই বিক্ষোভকারীদের ছবি ও ভিডিও তুলে রাখার জন্য নিজের অধস্তন পুলিশ কর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি। পুলিশের এই অনড় মনোভাব এবং আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেখেই শেষপর্যন্ত পিছু হটে জনতা। ডিম হাতে নিয়েই ফিরে যান বিক্ষোভকারীরা। এরপর পুলিশি পাহারায় কাউন্সিলর দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্ধার করে সুরক্ষিতভাবে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।






