কলকাতা

ডিম থেরাপি নিয়ে হাই কোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা, চলতি সপ্তাহেই শুনানির সম্ভাবনা

শুধু নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়াই নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

Truth of Bengal: বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে তথাকথিত ‘ডিম থেরাপি’। বিরোধী শিবিরের একের পর এক নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া, বিক্ষোভ এবং হামলার অভিযোগ ঘিরে এবার কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। সোমবার হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়। আদালত সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে। আইনজীবী দানিস ফারুক এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা বাড়ছে। শুধু নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়াই নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলাকারীর দাবি, এই ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সেই কারণে কোনও নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া বা হামলা করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ডিম ছোড়ার ঘটনার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিরোধী নেতাদের ঘিরে বিক্ষোভ ও হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। নির্বাচনের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সৌগত রায়, মদন মিত্র এবং কুণাল ঘোষের মতো একাধিক বিরোধী নেতার উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

এর মধ্যে কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। একটি মিছিল চলাকালীন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথায় আঘাত লাগে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই সব ঘটনাই জনস্বার্থ মামলায় তুলে ধরা হয়েছে।মামলাকারীর বক্তব্য, নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা জনরোষের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়লে তা রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক। বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক কার্যালয়ের সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

Related Articles