রাজ্যের খবর

সন্তান সরকারি স্কুলে পড়লে তবেই মিলবে ৩০০০ টাকা! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে আমজনতার ধন্দ কাটালেন শুভেন্দু!

বেসরকারি স্কুল আর কোভিড টিকা না নিলেই কি বাদ? অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মে কেন চাওয়া হচ্ছে এত তথ্য?

Truth of Bengal: বিধানসভা নির্বাচনে দেওয়া মেগা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে ক্ষমতায় এসেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু করেছে নতুন বিজেপি সরকার। জুন মাস থেকেই রাজ্যের কোটি কোটি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে ঢুকতে শুরু করেছে। তবে এই প্রকল্পের আবেদনপত্রের ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে ঘুম উড়েছিল আমজনতার। ফর্মে পরিবারের জমির পরিমাণ, কোভিড টিকার তথ্য থেকে শুরু করে সন্তান কোন স্কুলে পড়ে, সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া হচ্ছিল। ফলে কার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে আর কার নাম বাদ যাবে, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র জল্পনা চলছিল। অবশেষে বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার এক সরকারি অনুষ্ঠান থেকে এই সমস্ত ধোঁয়াশা এক তুড়িতে উড়িয়ে দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

আগের সরকারের দুর্নীতি রুখতেই এই কড়া বাছাই

ফলতার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে ফর্মে এত তথ্য চাওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ রয়েছে। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের তীব্র সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, “আগের সরকারের আমলে এই ধরনের সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। আমরা স্ক্রুটিনি করতে গিয়ে দেখেছি, খোদ মুর্শিদাবাদ জেলাতেই সাড়ে চার হাজারের বেশি পুরুষ মানুষ নিয়ম বহির্ভূতভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছিলেন! সেই কারণেই আমাদের সরকার এবার অত্যন্ত সতর্ক। আসল উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতেই ফর্মে এই সমস্ত তথ্য নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ১ কোটির বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছে।”

স্কুল এবং কোভিড টিকা নিয়ে কড়া শর্তাবলী

এদিন মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার করে দেন, কারা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন আর কারা পাবেন না। শুভেন্দুর ঘোষণা অনুযায়ী:

সরকারি স্কুল: যেসব পরিবারের সন্তানরা সরকারি বা সরকার পোষিত স্কুলে পড়াশোনা করছে, তারা অনায়াসে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩ হাজার টাকা পাবেন।

বেসরকারি স্কুল: বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে যদি সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রাজ্য সরকারের উপযুক্ত অনুমোদন (Approved) থাকে, তবেই সেই পড়ুয়ার মায়েরা এই সুবিধা পাবেন।

ধর্মীয় ও ভারত-বিরোধী স্কুল: মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, “যেসব স্কুলে ধর্মীয় গোঁড়ামির শিক্ষা দেওয়া হয় কিংবা ভারতের সংবিধান বিরোধী কথা শেখানো হয়, সেইসব স্কুলের পড়ুয়াদের অভিভাবকরা এই ভাতার টাকা পাবেন না। কারণ ওই পড়াশোনা দেশের মূল ধারার শিক্ষার মধ্যে পড়ে না।”

এর পাশাপাশি করোনাকালে যাঁরা সরকারের দেওয়া কোভিড সুরক্ষামূলক টিকা নেননি, তাঁরাও এই ভাতার আওতা থেকে পুরোপুরি বাদ পড়বেন বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Related Articles