কলকাতা

মাথার দাম ছিল ১০ লক্ষ টাকা! লালবাজারে অস্ত্র-সহ আত্মসমর্পণ মাও নেত্রী পুষ্পার

১০ বছর বয়সে হাতে বন্দুক, কমরেড ম্যারেজ থেকে লালগড় আন্দোলন! পিলে চমকানো জীবনকাহিনি মাওবাদী নেত্রীর

Truth of Bengal: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘মাওবাদীমুক্ত ভারত’ গড়ার কড়া টার্গেটের পর ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা ও দলমা পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল মাওবাদীদের বঙ্গ ব্রিগেড। আর সেই অভিযানের মুখেই বুধবার সকালে কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারে ঘটল এক ঐতিহাসিক ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বঙ্গে আত্মগোপন করে থাকা সিপিআই (মাওবাদী)-র জোনাল কমিটির শীর্ষ সদস্যা তথা একদা সারান্ডার জঙ্গলের ত্রাস শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পা অবশেষে আত্মসমর্পণ করলেন। তাঁর মাথার দাম ছিল নগদ ১০ লক্ষ টাকা। বুধবার সকালে ৪৬ রাউন্ড তাজা গুলি ও অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র-সহ লালবাজারে এসে এই শীর্ষ মাও নেত্রীর আত্মসমর্পণ কলকাতা পুলিশের এক বিশাল ও নজিরবিহীন সাফল্য, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সমাজ বদলানোর স্বপ্ন থেকে ‘কমরেড ম্যারেজ’

ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি থানার মেছুয়া গ্রামের সাধারণ ঘরের মেয়ে এই শকুন্তলা। মাওবাদী স্কোয়াডে পা রাখার পর পরি, বর্ষা, পুষ্পা, এমন চার-চারটি নাম নিয়ে জঙ্গল দাপিয়ে বেড়ালেও বাড়ির কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘লুটুন’ নামে। মাত্র ১০ বছর বয়সে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় মাওবাদী শিবিরে যোগ দেন তিনি। নকশাল সংগঠনে গান-বাজনা করতে করতেই সমাজ বদলানোর কাল্পনিক স্বপ্নে বিভোর হয়ে একদিন হাতে তুলে নিয়েছিলেন বন্দুক। বাম আমলে পুলিশ যখন তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল, তখন দল তাঁকে ঝাড়খণ্ডের পরেশনাথ পাহাড়ে পাঠিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে ২০০৩ সালে জঙ্গলমহলে স্কোয়াডে থাকাকালীন এরিয়া কমান্ডার অতুল মাহাতোর সঙ্গে আলাপ এবং ২০০৫ সালে ঝাড়খণ্ডের তামাড় জঙ্গলে তাঁদের ‘কমরেড ম্যারেজ’ বা বিয়ে হয়। এরপর লালগড় আন্দোলনের সময় মাওবাদী শীর্ষনেতা কিষাণজির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন এই শকুন্তলা। একাধিক বড়সড় মাওবাদী হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তিনি।

“অস্ত্র ছেড়ে মূল স্রোতে ফিরুন”, আত্মসমর্পণের পর বার্তা

২০১২ সালের পর যৌথ বাহিনীর লাগাতার অভিযানের মুখে মাওবাদীদের এই বঙ্গ ব্রিগেড ঝাড়খণ্ডের গভীর অরণ্যে গা ঢাকা দিলেও শেষরক্ষা হয়নি। একের পর এক গ্রেফতারি ও এনকাউন্টারের পর অবশেষে হিংসার পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন শকুন্তলা।

বুধবার লালবাজারে আত্মসমর্পণের পর ভেজা চোখে তিনি বলেন, “আমাদের দলের যাঁরা এখনও জঙ্গল বা বিভিন্ন প্রান্তে বিচ্ছিন্ন হয়ে দিন কাটাচ্ছেন, তাঁরা দয়া করে হিংসা ছেড়ে মূল স্রোতে ফিরে আসার চেষ্টা করুন। বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের জন্য অনেক ভালো কাজ করছে। তাই অস্ত্র ফেলে দিয়ে দেশের এই উন্নয়নে শামিল হওয়াই এখন সকলের জন্য মঙ্গলের।”

Related Articles