ব্রিগেড নয়, মোদির উপস্থিতিতে রেড রোডে হবে যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান
২১ জুনের ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাসনে অংশ নিতে পারবেন।
Truth of Bengal: আসন্ন ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে কেন্দ্র করে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে তিলোত্তমা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানের বিরাট আয়োজন করা হচ্ছে। পরবর্তীতে এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী খোদ প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন এবং প্রশাসনিক স্তরেও ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়। অবশেষে সেই খবরেই সিলমোহর পড়ল— দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল মঞ্চ হতে চলেছে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোড।
অনুষ্ঠানটি আসলে কোথায় হবে— ব্রিগেডের ময়দানে নাকি রেড রোডে, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে প্রশাসনিক অলিন্দে বেশ দোলাচল চলছিল। তবে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন রাজ্যে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ মুহূর্তে বৃষ্টি হলে মাঠ ভিজে গিয়ে যোগাসনে জটিলতা তৈরি হতে পারে। সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, রেড রোডেই এই রাজকীয় আয়োজন করা হবে। ২১ জুনের ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাসনে অংশ নিতে পারবেন। মূল অনুষ্ঠানে যাঁরা যোগা করাবেন, সল্টলেকের সাই (SAI)-তে তাঁদের প্রথম দফার বাছাই পর্ব ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় পর্বের বাছাইটি আগামীকাল রবিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েটিতে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার কড়া বেষ্টনীর কথা মাথায় রেখে রেড রোডের মূল অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চূড়ান্ত করা হচ্ছে। কলকাতা পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অংশগ্রহণকারীদের পুঙ্খানুপুঙ্খ স্ক্রিনিং ও বাছাইয়ের জন্য। তবে অসমর্থিত সূত্রের খবর, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) শাখা সংগঠন ‘ক্রীড়া ভারতী’ মারফত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। এর পাশাপাশি, এদিন রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে আরও একটি অত্যন্ত বড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। মূল যোগ দিবসের আগেই বিশ্বরেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে রবিবার ভোরে ‘যোগসঙ্গম’ পোর্টালের মাধ্যমে গিনেস বুকে নাম তোলার জন্য একটি বিশেষ অভিযান চালানো হবে, যাকে মূলত যোগ দিবসের একটি প্রস্তুতি মহড়া বা অনুশীলন হিসেবেই ধরা হচ্ছে।
ডিজি আয়ুষ দিব্যা লোগানাথন এই গিনেস রেকর্ড অভিযানের বিস্তারিত প্রক্রিয়াটি তুলে ধরে জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ যাতে সহজে এতে শামিল হতে পারেন, তার জন্য একটি বিশেষ টোল-ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে। ইচ্ছুক ব্যক্তিদের ১৮০০ ৩১৫ ৭০০৮ নম্বরে একটি মিসড কল দিতে হবে। তবে শর্ত হলো, যে নম্বর থেকে মিসড কল দেওয়া হবে, সেটিতে অবশ্যই হোয়াটসঅ্যাপ চালু থাকতে হবে। মিসড কল দেওয়ার পর সেই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি বিশেষ লিঙ্ক চলে যাবে, যেখানে ক্লিক করে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে হবে এবং রবিবারের এই মহোৎসবে যোগ দেওয়া যাবে। দেশের বিভিন্ন আবাসন, স্কুল-কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যেই এই ‘যোগসঙ্গমে’ শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই অভিযানে অংশ নিয়ে গিনেস বুকে নাম উঠলে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে আলাদা করে শংসাপত্র (Certificate) দেওয়া হবে। সচিব সারোদ দিবেদী জানান, হাতে সময় অত্যন্ত কম থাকলেও প্রশাসন সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছে, যাতে আপামর জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে ভারত এই বিশ্বরেকর্ড গড়তে পারে এবং আগামী ২১ জুনের মূল অনুষ্ঠানকে একটি স্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়।





