“পড়াশোনা করলেই চাকরি হবে, এই বিশ্বাসটাই ফিরিয়ে আনতে হবে!” দায়িত্ব নিয়েই বার্তা নতুন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের
তিনি স্বীকার করেছেন যে, রাজ্যের স্কুলগুলিতে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা অত্যন্ত প্রয়োজন
Truth of Bengal: নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই রাজ্যজুড়ে স্কুলশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পড়ুয়া ও অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনাকে প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্বীকার করেন, বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর মানুষের ভরসা তলানিতে ঠেকেছে। পড়াশোনা করলে যে চাকরি পাওয়া সম্ভব এবং শিক্ষকেরা যে সততার সঙ্গে পাঠদান করতে পারেন, এই ধারণাই সমাজ থেকে হারিয়ে গিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর মতে, এই নষ্ট হয়ে যাওয়া বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করাই এখন নতুন সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে, রাজ্যের স্কুলগুলিতে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে এক জটিল পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে রাজ্য। পূর্বতন সরকারের আমলে ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিলের পর, বিগত সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রায় ছাব্বিশ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি চলে যায়। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে, তা না হলে যোগ্য চাকরিহারা প্রার্থীরা চরম বিপদে পড়বেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির অনেক যোগ্য প্রার্থী নতুন করে পরীক্ষা দিয়ে সুপারিশপত্র পেলেও, ভোট পরবর্তী সময়ে গোটা প্রক্রিয়াটি থমকে রয়েছে। ফলে সুপারিশপত্র হাতে থাকা সত্ত্বেও প্রার্থীরা এখনও কাজে যোগ দিতে পারছেন না। এর ওপর আবার নতুন সরকার ২০১০ সালের পরবর্তী ওবিসি বিধি রদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেক প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আশঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছে।

এই সামগ্রিক আইনি জটিলতা ও এসএসসি নিয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে অবশ্য এখনই কোনো নিশ্চিত আশ্বাস দিতে চাননি নতুন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আদালতে অসংখ্য মামলা চলছে। তাই সমস্ত দিক খতিয়ে না দেখে এবং পরিস্থিতি ভালো করে না বুঝে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। পুরো বিষয়টি গুছিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগবে এবং রাতারাতি পরিস্থিতির বদল ঘটবে না বলেও তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বর্তমানে শিক্ষা দপ্তরের প্রশাসনিক পরিকাঠামোও এক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পূর্বতন আমলের পদাধিকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি পদ দুটি এই মুহূর্তে খালি পড়ে রয়েছে। আপাতত জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (ডিআই) ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে এবং এসএসসি দপ্তরে অস্থায়ীভাবে কাজ চালানো হচ্ছে। শীর্ষ স্তরের এই শূন্যতার কারণেই নিয়োগ প্রক্রিয়া গতি পাচ্ছে না। তবে রাজ্যের ধুঁকতে থাকা সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলির হাল ফেরাতে সরকার যে তৎপর, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মন্ত্রী। কোথাও শিক্ষকের অভাব, আবার কোথাও পড়ুয়ার অভাবে শিক্ষকেরা বসে থাকছেন— এই বৈষম্য দূর করে সবাইকে এক ছাতার তলায় এনে স্কুলশিক্ষার গৌরব ফিরিয়ে আনাই নতুন মন্ত্রী তথা সরকারের মূল লক্ষ্য।


