“সব মিথ্যা, দিদির সঙ্গেই আছি!”, বিদ্রোহের জল্পনায় জল ঢেলে মমতার পাশে শত্রুঘ্ন
বিজেপি টু তৃণমূল, কঠিন সময়ে হাত ধরেছিলেন মমতা! ছাব্বিশের সংকটেও নেত্রীর প্রতি ‘গুরুদক্ষিণা’ অভিনেতার
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের পর দিল্লির বুকে তৃণমূলের সংসদীয় দলে যে ঐতিহাসিক ভাঙন ধরেছে, তা নিয়ে প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের বিদ্রোহী ব্লকে কার কার নাম রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনার মাঝেই প্রবলভাবে চর্চায় উঠে এসেছিলেন আসানসোলের হেভিওয়েট সাংসদ তথা ‘শটগান’ শত্রুঘ্ন সিন্হা (Shatrughan Sinha)। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘতম মেয়াদের রেকর্ড গড়ার দিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শত্রুঘ্নর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সেই জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছিল। তবে সমস্ত জল্পনা, গুঞ্জন ও রাজনৈতিক আলোচনাকে এক লহমায় স্তব্ধ করে দিয়ে এবার নিজের অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট করলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা-রাজনীতিক।
“সব রটনা, আমি দিদির সঙ্গেই আছি”
দিল্লির অলিন্দে যখন গুঞ্জন চলছিল যে শত্রুঘ্ন সিন্হাও বিদ্রোহী ২২-২৩ জন সাংসদের তালিকায় সই করতে চলেছেন, ঠিক তখনই নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ‘খামোশ’ বার্তা দিলেন আসানসোলের সাংসদ। শত্রুঘ্ন সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি কোনও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত নন এবং ভবিষ্যতেও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) ছেড়ে যাওয়ার কথা দূর-দূরান্তেও ভাবছেন না। কড়া ভাষায় তিনি বলেন, “আমাকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অনেক কিছু বলা হচ্ছে। রটানো হচ্ছে যে আমি নাকি বিদ্রোহীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছি। পরিষ্কার জানিয়ে দিই, এসব খবরের কোনও ভিত্তি বা সত্যতা নেই।”

কঠিন দিনের বন্ধু মমতা, পাশে থাকার অঙ্গীকার
প্রকৃতপক্ষে, একসময় ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় মুখ ছিলেন শত্রুঘ্ন সিন্হা। অটল বিহারী বাজপেয়ীর জমানায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে মোদি-শাহের নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে দীর্ঘদিনের চেনা আস্তানা গেরুয়া শিবির ছাড়েন তিনি। ২০১৯-এর নির্বাচনে অন্য দলের টিকিটে লড়ে ভাগ্য সহায় হয়নি। ঠিক সেই রাজনৈতিক সংকটের সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২২ সালে মমতার অনুরোধেই তিনি আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে লড়েন এবং রেকর্ড ভোটে জয়ী হন। পরবর্তীতে ২০২৪-এর সাধারণ নির্বাচনেও আসানসোলের মানুষ তাঁর ওপরই ভরসা রাখেন।

শত্রুঘ্ন জানান, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে তাঁর হাত ধরেছিলেন, তা তিনি ভোলেননি। তাই আজ দল যখন চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন নেত্রীর পাশ থেকে সরে যাওয়াকে তিনি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে মনে করছেন। দলনেত্রীর প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ও আনুগত্য ১০০ শতাংশ অটুট রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরে যখন একের পর এক উইকেট পড়ছে, তখন শত্রুঘ্ন সিন্হার এই অনড় অবস্থান কালীঘাটের জন্য এই মুহূর্তে মস্ত বড় স্বস্তি।





