‘অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে’, গ্রেট নিকোবর প্রকল্প নিয়ে মোদিকে তোপ রাহুলের
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেছেন, এই প্রকল্পের ফলে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ ও সংবেদনশীল পরিবেশব্যবস্থার অপূরণীয় ক্ষতি হতে চলেছে।
Truth of Bengal: গ্রেট নিকোবর মেগা অবকাঠামো প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ফের সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেছেন, এই প্রকল্পের ফলে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ ও সংবেদনশীল পরিবেশব্যবস্থার অপূরণীয় ক্ষতি হতে চলেছে। তাঁর কথায়, এত সুন্দর একটি প্রাকৃতিক অঞ্চল ধ্বংস হতে চলেছে ভেবে আমি উদ্বিগ্ন।
শুক্রবার ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রাহুল জানান, সম্প্রতি তিনি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ সফর করেন। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের জন্য বিপুল পরিমাণ বনভূমি, প্রবালপ্রাচীর এবং স্থানীয় মানুষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাহুলের বক্তব্য, ৬১ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে, যা প্রায় চারটি নয়াদিল্লির সমান। দেশের সবচেয়ে অক্ষত ও সংবেদনশীল পরিবেশে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও আদিবাসীদের জমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রবালপ্রাচীর ধ্বংসের সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, নিকোবরের প্রবালপ্রাচীর শুধু সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাহুল বলেন, নিকোবরের প্রবালপ্রাচীর ধ্বংস করা মানে দেশের শত শত বাঘ হত্যা করার সমান। এটি ভারতের অমূল্য জীববৈজ্ঞানিক সম্পদকে নষ্ট করার শামিল।
একইসঙ্গে বনাধিকার আইন প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর অভিযোগ, আইন অনুযায়ী স্থানীয় গ্রামসভা ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মতামত যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি। বরং আইনকে ‘অপব্যবহার’ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি অভিযোগ শুনেছেন।
পরে সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে রাহুল লেখেন, ইন্দিরা পয়েন্টে দাঁড়িয়ে শতাব্দীপ্রাচীন বৃক্ষরাজি, বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ প্রবালপ্রাচীর এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রকল্পের কারণে আদিবাসী ও বসতি স্থাপনকারী বহু পরিবার উচ্ছেদের মুখে পড়েছে এবং অনেকেই উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না। গ্রেট নিকোবর প্রকল্পকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করা হলেও রাহুল সেই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, প্রতিরক্ষা অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রয়োজন হলে সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দেবে কংগ্রেস। তবে প্রকল্পের নামে বিপুল বনভূমি উজাড়, প্রবালপ্রাচীরের ক্ষতি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উচ্ছেদ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার বলছে এটি প্রতিরক্ষা ও ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের প্রকল্প। কিন্তু বাস্তবে ১.৫ কোটি গাছ কাটা হবে, প্রবালপ্রাচীরের অস্তিত্ব মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে এবং সৈনিক ও আদিবাসীদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। দেশের সবচেয়ে মূল্যবান পরিবেশগত সম্পদকে বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল আন্তর্জাতিক পূর্ব-পশ্চিম সমুদ্রপথের নিকটবর্তী অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্য শক্তিশালী করা এবং বিদেশি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের উপর নির্ভরতা কমানো। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করা হবে।
এই প্রকল্পের আওতায় একটি আন্তর্জাতিক কনটেনার ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল, গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গ্যাস-সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং আধুনিক টাউনশিপ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে উন্নয়ন বনাম পরিবেশ সংরক্ষণের বিতর্কে গ্রেট নিকোবর প্রকল্প এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠেছে।






