রাজ্যের খবর

বালতি চুরির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূলের দুই নেতা, নবগ্রামে পঞ্চায়েত অফিস ঘিরে শোরগোল

বর্জ্য ফেলার জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ওই বালতিগুলি বিলি করার কথা থাকলেও তা এতদিন সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছয়নি

Truth of Bengal: দুর্নীতির অভিযোগে ছোট থেকে বড়—তৃণমূলের একাধিক নেতা গ্রেফতার হওয়ার পর এবার হুগলির নবগ্রামে সামনে এল অন্য ধরনের অভিযোগ। সরকারি প্রকল্পের বালতি চুরির অভিযোগে গ্রেফতার করা হল তৃণমূলের দুই নেতাকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই কটাক্ষের সুরে তাঁদের ‘বালতি চোর’ বলে আক্রমণ করতে শুরু করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীরামপুরের নবগ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের বাইরে একশোরও বেশি প্লাস্টিকের বালতি পড়ে থাকতে দেখা যায়। বালতিগুলির গায়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের প্রকল্প ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’-এর স্টিকার লাগানো ছিল। অভিযোগ, বর্জ্য ফেলার জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ওই বালতিগুলি বিলি করার কথা থাকলেও তা এতদিন সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছয়নি।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, প্রকল্পের সামগ্রী এতদিন তৃণমূল নেতাদের বাড়িতেই মজুত রাখা ছিল। পরিস্থিতি বদলাতেই বিপদ বুঝে সেগুলি পঞ্চায়েত অফিসের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পঞ্চায়েত অফিসের সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বালতিগুলি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের সামগ্রী সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর বদলে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হত। হঠাৎ করে এত বালতি কীভাবে পঞ্চায়েত চত্বরে এল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।

এর মধ্যেই বালতি চুরির অভিযোগে শ্রীরামপুরের রাজ্যধরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দুই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম মোহন মণ্ডল এবং বিষ্ণু মণ্ডল। অভিযোগ, তৃণমূলের স্থানীয় কার্যালয় থেকে বালতি ছাড়াও সাদা থান, মশারি-সহ একাধিক সামগ্রী মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। তবে ধৃত দুই তৃণমূল নেতার দাবি, সামগ্রীগুলি মানুষের মধ্যে বিলি করার জন্যই রাখা হয়েছিল। ভোটের সময় তা বিলি করা সম্ভব ছিল না বলে নিরাপদ জায়গায় রাখা হয়েছিল বলে তাঁদের বক্তব্য। তাঁদের দাবি, ভোটের ফল প্রকাশের পর প্রশাসনের হাতে সামগ্রীগুলি তুলে দেওয়ার আগেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে হুগলির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের সামগ্রী কোথা থেকে এল, কারা মজুত রেখেছিল এবং সাধারণ মানুষের কাছে তা কেন পৌঁছয়নি—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Related Articles