রাজ্যের খবর

অনুমতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের গেট খুলে বিতর্কে বিজেপি বিধায়ক

উপাচার্য টেরই পেলেন না, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠের তালা খুলে দিলেন মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র

Truth of Bengal: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ‘মোহনবাগান মাঠ’-এর তালা খোলাকে কেন্দ্র করে এবার জড়িয়ে গেলেন বর্ধমান দক্ষিণের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। দীর্ঘ বহু বছর ধরে বন্ধ থাকা এই মাঠের তালা একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রতিনিধি হয়ে তিনি কীভাবে প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া খুলে দিলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবিরও।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা এই ঐতিহাসিক মোহনবাগান মাঠটি নিরাপত্তার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর পরিদর্শনে গিয়ে মাঠটি তালাবন্ধ অবস্থায় দেখতে পান বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও আধিকারিক বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা না করেই, তিনি সঙ্গে থাকা অনুগামীদের তক্ষুনি মাঠের গেট খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। বিধায়কের নির্দেশ পেয়েই কর্মীরা মাঠের দরজা উন্মুক্ত করে দেন, যা নিয়েই বেঁধেছে তুমুল গোলযোগ।

বিজেপি বিধায়কের এই পদক্ষেপকে তীব্র কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। স্থানীয় কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার রসিকতা ও ক্ষোভের সুরে বলেন, “বিধায়ক তো জানেনই না কোনটা ওঁর এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে আর কোনটা বাইরে! বাচ্চারা যেমন নতুন বই পেলে আনন্দ উল্টেপাল্টে দেখে, ঠিক তেমনই নতুন বিধায়ক প্রতিদিন গলায় মালা পরে সঙ্গীসাথী নিয়ে যেখানে-সেখানে ছুটে বেড়াচ্ছেন আর যা খুশি তাই করছেন।”

যদিও সমস্ত সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন বিজেপি বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। পালটা জবাবে তিনি বলেন, “এত বড় একটা মাঠ দিনের পর দিন বন্ধ থাকা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এবার থেকে শিশু হোক বা বয়স্ক, এলাকার সাধারণ মানুষ সবাই এখানে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে আসতে পারবেন। মর্নিং ওয়াক বা ইভিনিং ওয়াক করতে পারবেন এবং আমাদের ঘরের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলো করতে পারবে। আমি মানুষের ভালর জন্যই এই কাজ করেছি।”

তবে বিধায়কের এই ‘জনদরদী’ ইমেজে একেবারেই সায় দিচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শঙ্কর কুমার নাথ স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, “এই মাঠ খোলার ব্যাপারে আমি কিংবা রেজিস্ট্রার, কেউই কিচ্ছু জানতাম না। আমাদেরকে কার্যত অন্ধকারে রেখে, কোনওরকম না জানিয়েই মাঠের গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন এবং ক্রীড়া পরিকাঠামোয় বড় সমস্যা তৈরি হল।”

উপাচার্য আরও জানান, এই মোহনবাগান মাঠে প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর (PG) স্তরের ক্রীড়া পড়ুয়াদের বিশেষ প্রশিক্ষণ চলে। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সমস্ত অ্যাথলিটরা জাতীয় বা রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতামূলক খেলায় অংশ নেন, তাঁরাও এই মাঠে নিয়মিত অনুশীলন করেন। হঠাৎ করে বহিরাগতদের জন্য মাঠ খুলে দেওয়ায় ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষক তথা এক অধ্যাপক কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি জানিয়েছেন। উপাচার্য তাঁকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে বলেছেন এবং এই নিয়ে রাজভবন তথা আচার্যের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Related Articles